রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

সবশেষ

দেশে ফেরার অপেক্ষায় ছিল পরিবার, সৌদিতে কাঠের তক্তা মাথায় পড়ে প্রাণ গেল প্রবাসীর!

সৌদি আরবে ১৪ বছরের প্রবাসজীবনের অবসান হলো এক দুর্ঘটনায়। দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীর ফয়সাল মিয়া (২৮)। পরিবারের সঙ্গে শেষবার কথা বলার সময় জানিয়েছিলেন, ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে ফিরবেন। কিন্তু কর্মস্থলে ছয়তলা ভবনের ওপর থেকে কাঠের তক্তা মাথায় পড়ে গুরুতর আহত হওয়ার পর দুই দিন আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থেকে মারা গেছেন তিনি। এখন প্রিয়জনের কাছে তার ফেরার অপেক্ষা মরদেহ দেশে আনার আকুতিতে পরিণত হয়েছে।

ফয়সালের মৃত্যুর খবর শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে পরিবারের কাছে পৌঁছায়। এর আগে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে সৌদি আরবে থাকা পরিচিতজনদের মাধ্যমে তার কর্মস্থলে দুর্ঘটনার খবর জানতে পারেন স্বজনেরা। দুর্ঘটনার পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) দুই দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তার মৃত্যু হয়।

নিহত ফয়সাল মিয়া কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের নামা বোয়ালিয়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি মৃত মো. চান মিয়ার ছেলে। প্রায় ১৪ বছর ধরে সৌদি আরবের মক্কায় একটি কোম্পানিতে কাজ করছিলেন তিনি।

পরিবারের সদস্যদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কর্মস্থলে ছয়তলা ভবনের ওপর থেকে একটি কাঠের তক্তা ফয়সালের মাথায় পড়ে। এতে গুরুতর আহত হলে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে কীভাবে তক্তাটি ওপর থেকে পড়ে গেল, কর্মস্থলে নিরাপত্তাব্যবস্থা কেমন ছিল কিংবা দুর্ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

শেষ কথোপকথনে ছিল দেশে ফেরার পরিকল্পনা
ফয়সালের বড় ভাই মো. সজল মিয়ার বর্ণনায়, পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে ফয়সাল ছিলেন সবার ছোট। দুর্ঘটনার আগের রাতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন তিনি। তখন জানিয়েছিলেন, ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে দেশে ফেরার পরিকল্পনা রয়েছে তার। পরিবারের সবাইকে ঝগড়া-বিবাদ এড়িয়ে মিলেমিশে থাকার পরামর্শও দিয়েছিলেন।

সজল মিয়া জানান, আগামী মাসের ৬ তারিখে দেশে ফেরার কথা ছিল ফয়সালের। কিন্তু সেই পরিকল্পনা আর বাস্তবায়িত হলো না। দীর্ঘ প্রবাসজীবন শেষে পরিবারের কাছে ফেরার বদলে এখন তাঁর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার অপেক্ষায় রয়েছেন স্বজনেরা।

ফয়সালের স্ত্রী ও দুই সন্তান রয়েছে। পরিবারের উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্বজনেরা। দীর্ঘদিন বিদেশে থেকে পরিবারের জন্য উপার্জন করা ফয়সালের আকস্মিক মৃত্যুতে শোকের পাশাপাশি দেখা দিয়েছে আর্থিক অনিশ্চয়তাও।

মরদেহ ফেরানো ও পরিবারের সহায়তা চায় স্বজনেরা
ফয়সালের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন তার বড় ভাই। একই সঙ্গে পরিবারের অসহায় পরিস্থিতি বিবেচনায় তার মা, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য সরকারি আর্থিক সহায়তার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

এ বিষয়ে কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীমা আফরোজ মারলিজ জানিয়েছেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতা করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ ও সহায়তা দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

তবে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হবে কি না, তা মরদেহের অবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট আনুষ্ঠানিকতার ওপর নির্ভর করবে বলে উল্লেখ করেন ইউএনও।

ফয়সালের মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের তাৎক্ষণিক চাওয়া এখন তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে এনে শেষবারের মতো দেখার সুযোগ পাওয়া। পাশাপাশি স্ত্রী, সন্তান ও মায়ের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার বিষয়টিও সামনে এসেছে। দীর্ঘ ১৪ বছরের প্রবাসজীবন শেষে তার বাড়ি ফেরার যে পরিকল্পনা ছিল, তা অপূর্ণই থেকে গেল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *