বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

সবশেষ

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি পাসপোর্টের অস্বাভাবিক মজুত, তদন্তে ইমিগ্রেশন

মালয়েশিয়ার সেলাঙ্গর রাজ্যের মেরু এলাকায় একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের লকারে ২০টিরও বেশি বাংলাদেশি পাসপোর্ট পাওয়ার ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। নথিগুলো বৈধ হলেও একটি অফিসে এতগুলো পাসপোর্ট একসঙ্গে রাখার কারণ নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির মালিককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম নিউ স্ট্রেইটস টাইমস জানিয়েছে, বুধবার (২১ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালায় সেলাঙ্গর ইমিগ্রেশন বিভাগ ও ক্লাং রয়্যাল সিটি কাউন্সিল (এমবিডিকে)। এলাকার বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিক ও বিদেশি কর্মীদের যাচাই করার উদ্দেশ্যে অভিযান শুরু হলেও পরে একটি প্রতিষ্ঠানের পেছনের কক্ষে তল্লাশি চালিয়ে পাসপোর্টগুলো উদ্ধার করা হয়।

সন্দেহজনক কক্ষে মিলল পাসপোর্ট
অভিযান চলাকালে কর্মকর্তারা প্রতিষ্ঠানটির পেছনে একটি সন্দেহজনক কক্ষের সন্ধান পান। সেখানে একটি লকার তল্লাশি করে ২০টিরও বেশি বাংলাদেশি পাসপোর্ট পাওয়া যায়।

সেলাঙ্গর ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মোহাম্মদ খুসাইরি কামারুদ্দিন জানান, উদ্ধার হওয়া পাসপোর্টগুলোর তথ্য যাচাই করে সেগুলো বৈধ বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে সেগুলো কী কারণে ওই প্রতিষ্ঠানে রাখা হয়েছিল, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

তিনি বলেন, এভাবে পাসপোর্ট জমা করে রাখা সন্দেহজনক। বিষয়টির পেছনে প্রকৃত কারণ জানতে বিস্তারিত তদন্ত করা হবে। প্রতিষ্ঠানটির মালিককে তলব করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ওই মালিক বাংলাদেশি নাগরিক বলে ধারণা করছে কর্তৃপক্ষ।

দায়িত্বে থাকা যুবকের বক্তব্য
অভিযানের সময় প্রতিষ্ঠানটির দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা এক মালয়েশীয় যুবককে পাওয়া যায়। তিনি দাবি করেন, ৫০ রিঙ্গিতের বিনিময়ে তাকে শুধু এক দিনের জন্য প্রতিষ্ঠানটি দেখাশোনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।

যুবকটির ভাষ্য, সেদিনই সেখানে তার প্রথম কাজের দিন। পেছনের কক্ষে কী রয়েছে কিংবা পাসপোর্টগুলো সেখানে কেন রাখা হয়েছিল, সে সম্পর্কে তিনি কিছু জানেন না।

প্রতিষ্ঠানটিতে মোবাইল ফোন ও ঘরের আসবাবপত্র বিক্রির পাশাপাশি বাইসাইকেল মেরামতের কাজ করা হতো।

এখন নজর মালিকের ওপর
উদ্ধার হওয়া পাসপোর্টগুলো বৈধ হলেও সেগুলো এক জায়গায় সংরক্ষণের কারণ অনুসন্ধান করছে ইমিগ্রেশন বিভাগ। প্রতিষ্ঠানটির মালিককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে পাসপোর্টগুলো কীভাবে সেখানে এল এবং কারা সেগুলো জমা রেখেছিলেন, সে বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

তবে এখন পর্যন্ত পাসপোর্টগুলো অবৈধ কাজে ব্যবহৃত হয়েছে, এমন কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *