সৌদি আরবের স্বাস্থ্য খাতে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির খবরের মধ্যে বাংলাদেশি চাকরিপ্রার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ঘোষিত সব পদে বিদেশি নাগরিকেরা আবেদন করতে পারবেন কি না। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান হেলথ হোল্ডিং কোম্পানির (Health Holding Company) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে নতুন শূন্যপদ, ইতোমধ্যে সম্পন্ন নিয়োগ এবং অনুমোদিত প্রশিক্ষণ চুক্তি মিলিয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার ৬১০টি।
সোমবার (গালফ নিউজে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী) সৌদি আরবের ২০টি স্বাস্থ্য অঞ্চলে নতুন করে ৪ হাজার ২৯১টি শূন্যপদে নিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এসব পদে চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবাসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পেশার কর্মী নেওয়া হবে।
তবে ১৯ হাজার ৬১০ সংখ্যাটিকে বর্তমানে খালি থাকা পদের সংখ্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এর মধ্যে নতুন নিয়োগের সুযোগের পাশাপাশি আগে সম্পন্ন হওয়া নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ চুক্তিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ফলে চাকরিপ্রার্থীদের জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, কোন পদে আবেদন চলছে এবং কোন পদে বিদেশিদের যোগ্যতা রয়েছে, তা নিশ্চিত করা।
৪ হাজার ২৯১টি পদে নিয়োগ, কোন খাতে সুযোগ?
হেলথ হোল্ডিং কোম্পানির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের ২০টি স্বাস্থ্য অঞ্চলে নতুন শূন্যপদগুলোতে বিভিন্ন চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা-সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের নিয়োগ দেওয়া হবে।
দেশটির স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন, প্রয়োজনীয় জনবল নিশ্চিত করা এবং দক্ষ কর্মী আকৃষ্ট করাই এ উদ্যোগের লক্ষ্য। তবে নতুন পদগুলোর নির্দিষ্ট নাম, শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও পেশাগত শর্ত সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য অঞ্চলের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখতে হবে।
সব পদে একই যোগ্যতা প্রযোজ্য হবে না। চিকিৎসক, নার্স এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীর ক্ষেত্রে পদভেদে পেশাগত যোগ্যতা, নিবন্ধন ও লাইসেন্সের শর্ত আলাদা হতে পারে।
১৯ হাজার ৬১০টি সুযোগের হিসাব যেভাবে
প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে সৌদি নাগরিকদের মধ্যে ইতোমধ্যে ১২ হাজার ৯১৪ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ২ হাজার ৪০৫টি প্রশিক্ষণ চুক্তি অনুমোদন করা হয়েছে। এর সঙ্গে নতুন ঘোষিত ৪ হাজার ২৯১টি শূন্যপদ যোগ করে মোট কর্মসংস্থানের সুযোগের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার ৬১০টি।
এই হিসাব থেকে স্পষ্ট, ঘোষিত মোট সুযোগের সবগুলো নতুন নিয়োগ নয়। ইতোমধ্যে নিয়োগ সম্পন্ন হওয়া পদ এবং প্রশিক্ষণ চুক্তিও এতে রয়েছে। তাই চাকরিপ্রার্থীদের আবেদন করার আগে চলমান নিয়োগের তালিকা যাচাই করা প্রয়োজন।
বাংলাদেশিরা আবেদন করবেন কীভাবে?
বাংলাদেশি প্রার্থীদের জন্য মূল বিবেচ্য বিষয় হলো, নির্দিষ্ট পদে বিদেশি নাগরিকদের আবেদন করার অনুমতি রয়েছে কি না। ঘোষিত ৪ হাজার ২৯১টি শূন্যপদ বাংলাদেশি বা অন্যান্য বিদেশি নাগরিকদের জন্য উন্মুক্ত, এমন তথ্য স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি।
আগ্রহী প্রার্থীরা নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করতে পারেন:
১. নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি খুঁজুন: সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য অঞ্চলের নিয়োগ পোর্টালে চলমান শূন্যপদের তালিকা দেখুন।
২. যোগ্যতা যাচাই করুন: শিক্ষাগত সনদ, পেশাগত অভিজ্ঞতা, প্রয়োজনীয় নিবন্ধন ও লাইসেন্সের শর্ত মিলিয়ে নিন।
৩. বিদেশি প্রার্থীদের যোগ্যতা নিশ্চিত করুন: বিজ্ঞপ্তিতে বিদেশি নাগরিকদের আবেদন করার সুযোগ এবং প্রয়োজনীয় কাজের অনুমতির শর্ত উল্লেখ রয়েছে কি না, তা যাচাই করুন।
৪. সময়সীমার মধ্যে আবেদন করুন: প্রকাশিত নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি স্বাস্থ্য অঞ্চলে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের তারিখ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে। তাই বিজ্ঞপ্তির প্রকাশের তারিখ ও আবেদনের শেষ দিন নিশ্চিত করা জরুরি।
৫. অনলাইনে আবেদন জমা দিন: যোগ্যতা ও অন্যান্য শর্ত পূরণ করলে সংশ্লিষ্ট নিয়োগ পোর্টালের নির্দেশনা অনুসরণ করে আবেদন করুন।
বিদেশি স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য কী সুযোগ রয়েছে?
সৌদি আরবে চিকিৎসক, নার্স, মিডওয়াইফ এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবীদের জন্য বিদেশি কর্মী নিয়োগের সুযোগ থাকতে পারে। তবে এসব সুযোগ সংশ্লিষ্ট নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, পেশাগত যোগ্যতা, লাইসেন্স এবং কাজের অনুমতির শর্তের ওপর নির্ভর করে।
হেলথ হোল্ডিং কোম্পানির নতুন নিয়োগ উদ্যোগের লক্ষ্য সৌদি নাগরিকদের কর্মসংস্থান বাড়ানো। সে কারণে নতুন ঘোষিত পদগুলোতে বাংলাদেশিদের আবেদন করার সুযোগ রয়েছে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।
বাংলাদেশি চাকরিপ্রার্থীদের জন্য তাই সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ হলো, নির্দিষ্ট পদে বিদেশি নাগরিকদের যোগ্যতা নিশ্চিত করে তারপর আবেদন করা। শুধু মোট কর্মসংস্থানের সংখ্যা দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে চলমান শূন্যপদ, প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও আবেদনের সময়সীমা যাচাই করলেই অপ্রয়োজনীয় খরচ ও প্রতারণার ঝুঁকি কমানো সম্ভব।








