যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ তৈরি করা ডাইভারসিটি ইমিগ্র্যান্ট ভিসা (ডিভি) কর্মসূচির ২০২৭ সালের নিবন্ধন চালুর জন্য আদালতের নির্দেশ এসেছে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর কর্মসূচিটি নিয়ে নতুন করে আশার আলো দেখা গেলেও বাংলাদেশিদের জন্য সুযোগ তৈরি হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
মার্কিন সাময়িকী ফোর্বসের ১৯ অক্টোবরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডিভি লটারি নিবন্ধন চালু করতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরকে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন একটি ফেডারেল আদালত। নির্দেশনা অনুযায়ী, ২৯ অক্টোবরের মধ্যে নিবন্ধনসংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, ১ নভেম্বরের মধ্যে আবেদন গ্রহণ শুরু এবং অন্তত ৩০ দিন নিবন্ধনের সুযোগ রাখার কথা রয়েছে। নির্বাচিত আবেদনকারীদের বিষয়ে ৩ ডিসেম্বরের মধ্যে নোটিশ দেওয়ার সময়সীমাও উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে আদালতের নির্দেশ থাকলেই সব দেশের নাগরিক আবেদন করতে পারবেন, এমন নয়। অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে দেশভিত্তিক যোগ্যতার নিয়ম বহাল রয়েছে। পাশাপাশি আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন নিয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের সম্ভাবনাও রয়েছে।
বাংলাদেশিরা কি আবেদন করতে পারবেন?
এ মুহূর্তে বাংলাদেশিদের জন্য ডিভি-২০২৭ লটারিতে অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত হয়েছে, এমন তথ্য নেই। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের আনুষ্ঠানিক নির্দেশনায় বাংলাদেশের নাম যোগ না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশিদের আবেদনযোগ্য ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।
যুক্তরাষ্ট্রের ডিভি কর্মসূচিতে সাধারণত যেসব দেশ থেকে তুলনামূলক কমসংখ্যক মানুষ অভিবাসী হিসেবে দেশটিতে যান, সেসব দেশের নাগরিকদের জন্য সুযোগ রাখা হয়। এ নিয়মের কারণে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে কর্মসূচিটির বাইরে রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের আগের একাধিক বছরের নির্দেশনায় বাংলাদেশকে অযোগ্য দেশের তালিকায় রাখা হয়েছে। ২০২৬ সালের ডিভি কর্মসূচির তালিকাতেও বাংলাদেশ ছিল না। তবে ডিভি-২০২৭-এর চূড়ান্ত যোগ্যতার তালিকা প্রকাশের পরই এ বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে।
২০১২ সাল থেকে কেন সুযোগের বাইরে বাংলাদেশ?
ডিভি লটারিতে অংশগ্রহণের যোগ্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আগের পাঁচ বছরে কতজন অভিবাসী গেছেন, তা বিবেচনা করা হয়। যেসব দেশ থেকে অভিবাসীর সংখ্যা নির্ধারিত সীমার বেশি হয়, সেসব দেশকে সাধারণত পরবর্তী কর্মসূচির জন্য অযোগ্য ঘোষণা করা হয়।
বাংলাদেশিরা ২০১২ সালের পর থেকে ডিভি লটারিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না। ২০০৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি অভিবাসীর সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়িয়ে যাওয়াকে এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
তবে ডিভি কর্মসূচির যোগ্যতা সাধারণত নাগরিকত্বের পরিবর্তে জন্মদেশের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে স্বামী বা স্ত্রীর জন্মদেশ কিংবা মা-বাবার জন্মদেশের ভিত্তিতে যোগ্যতা বিবেচনার সুযোগ থাকতে পারে। ফলে বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া কেউ সাধারণ নিয়মে অযোগ্য হলেও তার পারিবারিক পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে ব্যতিক্রম প্রযোজ্য হতে পারে।
আবেদন কবে শুরু হতে পারে?
আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ডিভি লটারির নিবন্ধনসূচি প্রকাশের জন্য ২৯ অক্টোবর এবং আবেদন গ্রহণ শুরুর জন্য ১ নভেম্বর সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। নিবন্ধন অন্তত ৩০ দিন চালু রাখার কথা রয়েছে। নির্বাচিতদের নোটিশ দেওয়ার সময়সীমা ৩ ডিসেম্বর।
তবে এসব তারিখকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের চূড়ান্ত ঘোষণার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা জরুরি। আবেদন শুরুর তারিখ, যোগ্য দেশগুলোর তালিকা, শিক্ষাগত বা কাজের অভিজ্ঞতাসংক্রান্ত শর্ত এবং আবেদনপদ্ধতি সম্পর্কে সরকারি নির্দেশনাই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে।
প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকবেন যেভাবে
ডিভি লটারি চালুর খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভুয়া ওয়েবসাইট, অর্থের বিনিময়ে গ্রিন কার্ড পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি কিংবা নির্বাচিত করে দেওয়ার নিশ্চয়তা দেওয়া ব্যক্তিদের বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী, ডিভি কর্মসূচিতে প্রাথমিক নিবন্ধন বিনামূল্যে করা যায়। আবেদন করতে হবে নির্ধারিত সরকারি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অর্থের বিনিময়ে নির্বাচিত হওয়ার নিশ্চয়তা দিতে পারে না।
সরকারি নির্দেশনায় নিবন্ধন চালু হওয়ার তারিখ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো অননুমোদিত ওয়েবসাইটে ব্যক্তিগত তথ্য বা পাসপোর্টের তথ্য দেওয়া উচিত নয়। আবেদন জমা দেওয়ার পর পাওয়া কনফার্মেশন নম্বরও নিজের কাছে নিরাপদে রাখতে হবে।








