ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পর্ষদের প্রধান আলী লারিজানি নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ। লারিজানি ইরানের বেঁচে থাকা সর্বজ্যেষ্ঠ নেতাদের একজন ছিলেন।
আজ মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে ইসরায়েল কাৎজ এই তথ্য জানান।
তবে এই খবরের বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
লারিজানি নিহত হওয়ার খবরটি নিয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য আসার অপেক্ষায় রয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।

উল্লেখ্য, গত কয়েক দশক ধরে আলী লারিজানি ছিলেন ইরানের ক্ষমতা কাঠামোর শান্ত ও বাস্তববাদী মুখ। তিনি অষ্টাদশ শতাব্দীর জার্মান দার্শনিক ইমানুয়েল কান্টের ওপর বই লিখেছেন ও পশ্চিমাদের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে আলোচনা করেছেন।
তবে গত ১ মার্চ ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা পর্ষদের ৬৭ বছর বয়সী এই সেক্রেটারির কথার ধরন বদলে যায়।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর নিহত হওয়ার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে উপস্থিত হয়ে লারিজানি জ্বালাময়ী বক্তব্য দিয়েছেন।
তথ্যসূত্র: আল–জাজিরা
ইসলামী বিপ্লবী গার্ডের বাসিজ ফোর্স প্রধান সোলাইমানি নিহত, দাবি ইসরায়েলের
ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) আওতাধীন আধাসামরিক বাহিনী ‘বাসিজ ফোর্সের’ কমান্ডার গোলামরেজা সোলাইমানিকে হত্যার দাবি করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।
গতকাল সোমবার রাতে এক হামলায় সোলাইমানি নিহত হয়েছেন বলে এ দাবি করা হয়েছে।

ইসরায়েলি বাহিনীর দাবি, সোলাইমানির এ মৃত্যু ইরানের ‘কমান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল’ বা সামরিক নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর জন্য একটি ‘বড় ধরনের ধাক্কা’।
একই সঙ্গে ইরানি কমান্ডারদের বিরুদ্ধে ‘শক্তি প্রয়োগ অব্যাহত’ রাখার অঙ্গীকারও করেছে ইসরায়েল।
তবে এই খবরের বিষয়ে ইরান এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু করার পর থেকেই ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে আসছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। এসব হামলায় দেশটির ৮৬ বছর বয়সী সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কমান্ডার নিহত হয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, সোলাইমানিকে হত্যার ফলে বাসিজ ফোর্সের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আরও দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।
ইরানে বর্তমান শাসন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে যেকোনো সম্ভাব্য বিদ্রোহ দমনে এ বাহিনী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। মূলত এই কারণেই বাসিজসহ অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীগুলোকে শুরু থেকেই লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।
তথ্যসূত্র: আল–জাজিরা ও এপি








