মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় সাময়িক ছাড়ের সুযোগ নিয়ে কেনা ইরানের তেলের দাম চীনা মুদ্রা ইউয়ানে মেটাচ্ছে ভারতীয় শোধনাগারগুলো। মুম্বাই-ভিত্তিক আইসিআইসিআই ব্যাংকের মাধ্যমে এই লেনদেন হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিষয়টি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল চারটি সূত্র।
ইরানের মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসনের জেরে বিশ্ববাজারে বেড়ে যাওয়া তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে গত মাসে সমুদ্রে ভাসমান রুশ ও ইরানি তেল কেনায় ৩০ দিনের জন্য মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় ছাড় দেয় ওয়াশিংটন। রোববার ইরানি তেলের ওপর থেকে এই ছাড়ের মেয়াদ শেষ হতে চলেছে। রুশ তেলের জন্য ছাড়ের মেয়াদ বাড়ালেও ইরানি তেলের জন্য এই ছাড়ের মেয়াদ এখনও পর্যন্ত বাড়ায়নি আমেরিকা।
ব্যবসায়ীরা বলেন, তেহরানের ওপর দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞার কারণে এই তেলের দাম মেটানোর ক্ষেত্রে নানা জটিলতা রয়েছে। সেই কারণেই ছাড় থাকা সত্ত্বেও অনেক আগ্রহী ক্রেতা ইরানি ক্রুড তেল কেনা থেকে পিছিয়ে এসেছে।
চলতি মাসের শুরুর দিকে ২০ লাখ ব্যারেল ইরানি তেল কিনেছে ভারতের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন (আইওসি)। ‘জয়া’ নামের একটি বড় জাহাজে আসা ওই তেলের আনুমানিক মূল্য প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলার। গত সাত বছরের মধ্যে এই প্রথম ইরানের থেকে ক্রুড তেল কিনল ভারত।
এছাড়া বেসরকারি শোধনাগার রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের জন্য ইরানি তেল বোঝাই চারটি জাহাজকে ভারতের বন্দরে নোঙর করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে গত সপ্তাহে জানায় একাধিক সূত্র। এলএসইজি-র পরিসংখ্যান ও সূত্রের খবর, এখনও পর্যন্ত ‘এমটি ফেলিসিটি’ নামের একটি জাহাজ থেকে তেল খালাস করা হয়েছে।
আইওসি এবং রিলায়েন্স— দুই শোধনাগারই আইসিআইসিআই ব্যাংকের মাধ্যমে এই তেলের দাম মেটাচ্ছে। ব্যাংকটি তাদের সাংহাই শাখার মাধ্যমে চীনা মুদ্রা ইউয়ানে বিক্রেতাদের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠাচ্ছে। তবে বিক্রেতাদের পরিচয় জানা যায়নি।
এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য ইমেইলে আইসিআইসিআই, আইওসি, রিলায়েন্স ও ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কোনো উত্তর মেলেনি।
এই তেলের দাম ঠিক কী ভাবে মেটানো হচ্ছে, তা নিয়ে এর আগে বিস্তারিত কোনো খবর প্রকাশ্যে আসেনি।
তেলবাহী ট্যাংকার ভারতের জলসীমায় প্রবেশ করলেই সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান নোটিশ অভ রেডিনেস দেয়। দুটি সূত্রের দাবি, সেই নোটিশ পাওয়ার পরেই তেলের মোট দামের প্রায় ৯৫ শতাংশ মিটিয়ে দিয়েছে আইওসি। এর মধ্যে একটি সূত্রের তথ্যমতে, এভাবে মূল্য পরিশোধের পদ্ধতিটি সচরাচর দেখা যায় না।
ওই সূত্র দুটি জানিয়েছে, সাধারণত পশ্চিমা দেশগুলির নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দেশ থেকে কেনার ক্ষেত্রে তেল হাতে পাওয়ার বা খালাস করার পরেই রাষ্ট্রায়ত্ত শোধনাগারগুলো দাম পরিশোধ করে। ২০২২ সালে ইউক্রেনে হামলার পর রাশিয়ার ওপর ব্যাপক পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা আরোপ হয়। এরপর থেকে রুশ তেল কেনায় শীর্ষ দেশগুলোর একটি ভারত।
সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা ব্লার অনুমতি না থাকায় ওই দুই সূত্র নিজেদের পরিচয় প্রকাশ করতে রাজি হয়নি।
এর আগে রুশ তেল কেনার ক্ষেত্রেও দামের একাংশ মেটাতে চীনা মুদ্রা ব্যবহার করেছিল ভারতীয় শোধনাগারগুলো।
একটি সূত্রের দাবি, ইরানের থেকে আর তেল কেনার কোনো পরিকল্পনা আপাতত আইওসির নেই।
আমেরিকার সাম্প্রতিকতম এই ছাড় ঘোষণার আগে পর্যন্ত মার্কিন নিষেধাজ্ঞার চাপে ২০১৯ সাল থেকে ইরানের তেল কেনা বন্ধ রেখেছিল ভারত। তখন থেকে চীনের স্বাধীন শোধনাগারগুলোই (যাদের ‘টিপট’ বলা হয়) ইরানের তেলের প্রধান ক্রেতা হয়ে উঠেছে।








