খেলাপি ঋণ কমানো এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পকারখানা পুনরায় চালুর লক্ষ্য নিয়ে আবারও বিশেষ সুবিধা ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে মাত্র ২ শতাংশ ডাউনপেমেন্ট জমা দিয়েই খেলাপি ঋণ পুনঃতফশিল বা নিয়মিত করার সুযোগ পাবেন ঋণগ্রহীতারা। এই সুবিধা আগামী জুন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, যেসব ঋণগ্রহীতা চলতি বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত খেলাপি হয়েছেন, কেবল তারাই এই নীতির আওতায় আবেদন করতে পারবেন।
অর্থনীতিতে স্থবির হয়ে পড়া শিল্পকারখানা সচল করা এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির লক্ষ্য থেকেই এমন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে দাবি করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এর আগে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর শেষে দেশের ব্যাংক খাতে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল প্রায় ৬ লাখ ৪৪ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা। তবে বিশেষ নীতি সহায়তার কারণে ডিসেম্বর শেষে সেই পরিমাণ কমে প্রায় ৫ লাখ ৫৭ হাজার কোটি টাকায় নেমে আসে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে খেলাপি ঋণের হার ৩৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ থেকে কমে ৩০ দশমিক ৬০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পুনঃতফশিল সুবিধার কারণেই এই পরিবর্তন এসেছে।
এদিকে আসন্ন বাজেটে বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরায় চালুর জন্য প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। সেই পরিকল্পনার সঙ্গে সমন্বয় করেই নতুন করে ঋণ পুনঃতফশিলের সময় বাড়ানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান বর্তমানে অর্থ সংকটে বন্ধ অবস্থায় রয়েছে। সেগুলো পুনরায় চালু করতে হলে উদ্যোক্তাদের কিছুটা আর্থিক সহায়তা এবং ব্যাংকিং সুবিধা দিতে হবে। তার ভাষায়, “কল থেকে পানি পেতে হলে আগে কিছু পানি ঢালতে হয়।” অর্থাৎ, খেলাপি গ্রাহকদের আবার ঋণসুবিধার আওতায় আনতে পুনঃতফশিলের সুযোগ প্রয়োজন বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
তবে অর্থনীতিবিদদের একাংশ এই নীতির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তাদের মতে, শিল্প ও কর্মসংস্থান রক্ষার উদ্যোগ ইতিবাচক হলেও আগের নীতি সহায়তাগুলোর বাস্তব ফলাফল পর্যালোচনা করা জরুরি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আল-আমিন বলেন, এ ধরনের সুবিধা দেয়ার আগে সরকারকে স্পষ্টভাবে দেখাতে হবে যে এতে অর্থনীতিতে কী ধরনের ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
কতসংখ্যক শিল্পপ্রতিষ্ঠান সচল হবে, কত কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে কিংবা ব্যাংক খাত কতটা স্থিতিশীল হবে, এসব বিষয়ে তথ্যভিত্তিক মূল্যায়ন থাকা প্রয়োজন। তাহলেই কার্যকর জবাবদিহি ও ভারসাম্য নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক আরও জানিয়েছে, কোনো গ্রাহক পুনঃতফশিলের আবেদন করলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে সর্বোচ্চ তিন মাসের মধ্যে সেই আবেদন নিষ্পত্তি করতে হবে।








