সোমবার, ১১ মে ২০২৬

সবশেষ

পুলিশ বাহিনী চেইন অব কমান্ড মেনে কাজ না করলে ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পুলিশ বাহিনীতে শৃঙ্খলা, জবাবদিহি ও মানবাধিকার নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, চেইন অব কমান্ড অমান্য করলে কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। একইসঙ্গে তিনি পুলিশ সদস্যদের মানবাধিকার সমুন্নত রেখে কৌশলী ও জনবান্ধব আচরণের আহ্বান জানিয়েছেন।

সোমবার (১১ মে) পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে আয়োজিত ‘পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ’ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার পুলিশ বাহিনীতে কোনো ধরনের দুর্নীতি বা শৃঙ্খলাভঙ্গকে প্রশ্রয় দেবে না। তিনি স্পষ্ট করে জানান, বাহিনীর ভেতরে দায়িত্ব পালনে অবহেলা কিংবা নির্দেশনা অমান্য করার ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট সদস্যদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, জনগণের আস্থা অর্জন করতে হলে কেবল আইন প্রয়োগ করলেই হবে না, আচরণেও মানবিকতা দেখাতে হবে। থানায় সেবা নিতে আসা কোনো ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করার দায়িত্বও পুলিশের। তার ভাষায়, “পুলিশই জনতা, জনতাই পুলিশ”, এই ধারণা বাস্তবে কার্যকর করতে হবে কাজের মাধ্যমে।

আধুনিক পুলিশিং ব্যবস্থার প্রসঙ্গ তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, পুলিশের অপারেশন, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও তদন্ত কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বাড়াতে বডিওর্ন ক্যামেরার ব্যবহার আরও সম্প্রসারণ করা হবে। ভবিষ্যতে বিভিন্ন অভিযান ও তদন্তের কার্যক্রম রেকর্ড সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে পুলিশ সদস্যদের ন্যূনতম বলপ্রয়োগের বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে মানবাধিকারের বিষয়টি এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, অপরাধ দমন ও তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় সব কার্যক্রমই মানবাধিকার রক্ষা করেই পরিচালনা করতে হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুলিশিং ব্যবস্থায় ‘রিঅ্যাক্টিভ’ নয়, ‘প্রোঅ্যাক্টিভ’ কৌশলের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তার মতে, অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর ব্যবস্থা নেয়ার চেয়ে প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহার করে আগেই অপরাধ প্রতিরোধ করা বেশি কার্যকর। তিনি বলেন, পুরোনো ধ্যানধারণার পুলিশিং থেকে বের হয়ে আধুনিক ও তথ্যভিত্তিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার দিকে এগোতে হবে।

ডিজিটাল যুগে সাইবার অপরাধ, গুজব ও অপপ্রচার মোকাবিলায় পুলিশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোরও তাগিদ দেন তিনি। একইসঙ্গে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টুরিস্ট পুলিশের সক্ষমতা আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বৈশ্বিক বাস্তবতায় পুলিশিং এখন শুধু অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সীমাবদ্ধ নেই। জনগণের সঙ্গে বিশ্বাস ও আস্থার সম্পর্ক তৈরি করাও পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এজন্য ব্যক্তিগত সততা ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতার কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মাদক, সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রবাদ মোকাবিলায় সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিট পুলিশিং কার্যক্রম আরও জোরদার করতে হবে। স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে পাড়া-মহল্লাভিত্তিক অপরাধ দমন কার্যক্রম চালানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *