মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

সবশেষ

শিক্ষার্থী আন্দোলনের মধ্যে মোদির বাসভবনের সামনে রাহুল-প্রিয়াঙ্কার বিক্ষোভ, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমা দাবি

ভারতে শিক্ষার্থী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়েছে। পুলিশের দমন-পীড়নের অভিযোগে এবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধী।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে সংসদ অভিমুখে পদযাত্রার একদিন পর কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর চাপ বাড়াতে নয়াদিল্লিতে এই কর্মসূচি পালন করে কংগ্রেস।

বিক্ষোভের আগে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের অভিযানের কঠোর সমালোচনা করেন রাহুল গান্ধী। তিনি বলেন, দিল্লিতে সোমবার যা ঘটেছে, তার দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির এ ঘটনার জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া উচিত।

রাহুলের ভাষ্য, শিক্ষার্থীরা পুলিশের হাতে নির্যাতনের শিকার হলেও প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে নীরব রয়েছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন এখনো ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করা হয়নি। একই সঙ্গে তিনি সরকারের প্রতি দ্রুত এ ধরনের পদক্ষেপ বন্ধ করার আহ্বান জানান।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বিক্ষোভের পাশাপাশি রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী দিল্লির আরএমএল হাসপাতালে গিয়ে আহত আন্দোলনকারীদের খোঁজখবর নেন।

এদিকে সংসদ অধিবেশন শুরুর আগে মঙ্গলবার সকালে লোকসভার স্পিকার ওম বিরলার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন রাহুল গান্ধী। সেখানে তিনি শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে পুলিশের পদক্ষেপ এবং চলমান পরীক্ষা-সংকট নিয়ে সংসদে বিস্তারিত আলোচনার দাবি জানান।

পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে রাহুল লেখেন, বিরোধী দলের সাংসদদের সঙ্গে স্পিকারের বৈঠকে তাদের প্রধান দাবি ছিল শিক্ষার্থীদের ওপর চালানো নৃশংসতা এবং পরীক্ষা-সংক্রান্ত সংকটে সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সংসদে পূর্ণাঙ্গ আলোচনা করা।

তিনি অভিযোগ করেন, নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে যৌক্তিক প্রশ্ন তোলার কারণেই শিক্ষার্থীদের মারধরের শিকার হতে হয়েছে। তার প্রশ্ন, ভারতের তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে যদি সংসদে আলোচনা না হয়, তাহলে সংসদের উদ্দেশ্য কী?

রাহুল গান্ধী আরও বলেন, বিরোধী দল শিক্ষার্থীদের দাবির পক্ষে আন্দোলন অব্যাহত রাখবে এবং এই ইস্যু কোনোভাবেই চাপা পড়তে দেবে না। তার মতে, সংসদের ভেতরে ও রাজপথে শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বর তুলে ধরতে কংগ্রেস কাজ চালিয়ে যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *