বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

সবশেষ

যুক্তরাষ্ট্রে মসজিদে হামলা ও ভাঙচুর উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে, বলছে কেয়ার

যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমদের উপাসনালয়কে লক্ষ্য করে হামলা, ভাঙচুর এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা গত এক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মার্কিন মুসলিমদের অধিকারবিষয়ক সংগঠন দ্য কাউন্সিল অন আমেরিকান ইসলামিক রিলেশন্স (কেয়ার) জানিয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টারকে লক্ষ্য করে সংঘটিত ঘটনার সংখ্যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫১ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।

গতকাল প্রকাশিত কেয়ারের এক প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০২৬ সালের মে, জুন ও জুলাই মাসে মসজিদকেন্দ্রিক হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১৮৩ শতাংশ বেড়েছে।

সংস্থাটি জানিয়েছে, তাদের হিসাবের মধ্যে শুধু ভাঙচুর নয়; মসজিদে হামলা, অগ্নিসংযোগ, ভয়ভীতি প্রদর্শন, মুসলিমদের উপাসনালয় নির্মাণে বাধা দেওয়ার ঘটনাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে কেয়ারের গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি শাখার পরিচালক কোরি সেইলর বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামভীতি ও মুসলিমবিদ্বেষ ক্রমেই সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্যতার রূপ নিচ্ছে। তার ভাষ্য, অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়েও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে, তবে মুসলিমদের উপাসনালয়কে লক্ষ্য করে এমন ঘটনার প্রবণতা তুলনামূলকভাবে বেশি।

তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় কমিউনিটি নেতাদের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। ইসলামভীতি ও ঘৃণামূলক আচরণ প্রতিরোধে তাদের দায়িত্বশীল ও সতর্ক অবস্থান জরুরি।

কেয়ার জানায়, মুসলিমবিদ্বেষমূলক কোনো বড় ঘটনা ঘটলে সংস্থাটি পরবর্তী তিন মাস পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে, যাতে উত্তেজনা বা সহিংসতার মাত্রা বাড়ছে কি না, তা মূল্যায়ন করা যায়।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১৮ মে একদল শ্বেতাঙ্গ কট্টরপন্থি ক্যালিফোর্নিয়ার স্যান ডিয়েগোর একটি ইসলামিক সেন্টারে হামলা চালায়। হামলার সময় শিশুদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে আমিন আবদুল্লাহ, মনসুর কাজিহা ও নাদির আওয়াদ নিহত হন।

কেয়ারের এক কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, সংস্থার নথি অনুযায়ী ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ইসলাম ও মুসলিমবিদ্বেষ-সংশ্লিষ্ট মোট ৩৩টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছিল। অথচ চলতি বছরের শুধু মে থেকে জুলাই মাসেই এ ধরনের ১৭টি ঘটনার তথ্য তাদের কাছে এসেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *