সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬

সবশেষ

নুসরাত হত্যা: ঢালাও ফাঁসির আদেশ দেয়া বিচারকের বিচারিক ক্ষমতা প্রত্যাহার

ফেনীর আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় নিম্ন আদালতের দেওয়া রায়ের বড় অংশ পরিবর্তন করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে মামলায় ‘নির্বিচারে’ মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার অভিযোগে তৎকালীন বিচারক মামুনুর রশিদের বিচারিক ক্ষমতা প্রত্যাহার করে তাকে আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সোমবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ আসামিদের ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও জেল আপিলের শুনানি শেষে এ রায় দেন।

হাইকোর্টের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নুসরাত হত্যা মামলায় সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা এবং শাহাদাত হোসেন শামীমের মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকছে। অপরদিকে ১০ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে। আরও চার আসামির সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে তৎকালীন বিচারিক আদালতের ভূমিকা নিয়েও কঠোর মন্তব্য করেন হাইকোর্ট। আদালত বলেন, নির্বিচারে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার কারণে প্রতিটি পরিবারের ওপর ‘বিপর্যয়কর প্রভাব’ পড়েছে। এ কারণে ওই বিচারকের বিচারিক ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে তাকে আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নুসরাত হত্যা মামলায় ২০১৯ সালে ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের তৎকালীন বিচারক মামুনুর রশিদ ১৬ আসামির সবাইকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন। সেই রায়ের বিরুদ্ধে আসামিদের আপিল ও জেল আপিল এবং মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্সের শুনানি হয় হাইকোর্টে।

সোমবার রায় ঘোষণার সময় আদালতে আসামিদের পাশাপাশি নুসরাতের স্বজনরাও উপস্থিত ছিলেন।

আসামিপক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী, অ্যাডভোকেট এস এম শাহজাহান, অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম, ব্যারিস্টার এস এম মাসুদ হোসেন দোলন ও অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল এবং ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *