সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬

সবশেষ

যুদ্ধের ধাক্কার মধ্যেই ইরানের গ্যাসে বড় সুখবর, মিলল ২১২ বিলিয়ন ঘনমিটারের মজুত

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে জ্বালানি খাতে বড় ধরনের আবিষ্কারের ঘোষণা দিয়েছে ইরান। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় ফার্স প্রদেশে নতুন একটি বিশাল গ্যাসক্ষেত্রের সন্ধান মিলেছে। সেখানে আনুমানিক ৭ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ঘনফুট বা ২১২ দশমিক ৪ বিলিয়ন ঘনমিটার প্রাকৃতিক গ্যাস রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন দেশটির পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী মোহসেন পাকনেজাদ।

তিনি জানান, নতুন আবিষ্কৃত গ্যাসক্ষেত্রের গ্যাসে হাইড্রোজেন সালফাইডসহ অনাকাঙ্ক্ষিত উপাদানের পরিমাণ তুলনামূলক কম। ফলে এখান থেকে গ্যাস উত্তোলনের প্রক্রিয়া অন্য অনেক ক্ষেত্রের তুলনায় সহজ হবে এবং খরচও কম পড়তে পারে।

তবে পুরো মজুত ব্যবহার করা সম্ভব হবে না বলে জানিয়েছেন ইরানের পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২১২ দশমিক ৪ বিলিয়ন ঘনমিটার গ্যাসের মধ্যে ১৬০ বিলিয়ন ঘনমিটারের বেশি গ্যাস বাস্তবে উত্তোলন করা সম্ভব হতে পারে।

যুদ্ধের মধ্যে কমেছে গ্যাস উৎপাদন
নতুন গ্যাসক্ষেত্রের সন্ধান এমন সময়ে এলো, যখন যুদ্ধের কারণে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো বড় ধরনের চাপের মুখে রয়েছে। মার্কিন বাহিনীর ধারাবাহিক হামলায় দেশটির তেল ও গ্যাস খাতের বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে দৈনিক গ্যাস উৎপাদনেও।

ইরানের সরকারি কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাইয়ে দেশটি দৈনিক গড়ে মাত্র ২৩০ মিলিয়ন ঘনমিটার গ্যাস উৎপাদন করতে পেরেছে।

যুদ্ধ শুরুর আগে ইরানের গ্যাস উৎপাদনের পরিমাণ ছিল এর তুলনায় অনেক বেশি। দেশটির গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে প্রতিদিন প্রায় ৬৫০ বিলিয়ন কিউবিক মিটার গ্যাস উত্তোলন করা হতো বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

জ্বালানিতে ইরানের বড় ভরসা গ্যাস
তেলসমৃদ্ধ দেশ হিসেবে পরিচিত হলেও প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুতেও বিশ্বে অন্যতম শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে ইরান। ফলে নতুন এই গ্যাসক্ষেত্রের আবিষ্কার যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির মধ্যে দেশটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সম্পদ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশেষ করে নতুন ক্ষেত্রের গ্যাসে ক্ষতিকর ও অপ্রয়োজনীয় উপাদানের উপস্থিতি কম থাকায় ভবিষ্যতে বাণিজ্যিকভাবে এটি কাজে লাগানো তুলনামূলক সহজ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো ও উৎপাদন সক্ষমতা পুনরুদ্ধারই এখন ইরানের জ্বালানি খাতের বড় চ্যালেঞ্জ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *