রাশিয়ায় থাকা বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও প্রবাসী শ্রমিকদের কাছ থেকে টিউশন ফি ও অন্যান্য আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে পাঁচ কোটিরও বেশি টাকা সংগ্রহের পর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগ উঠেছে নাটোরের নলডাঙ্গার এক দম্পতির বিরুদ্ধে। অভিযোগের পর থেকে অভিযুক্ত মিনহাজুল ইসলাম হৃদয় ও তার স্ত্রী রাবেয়া খাতুনের কোনো সন্ধান মিলছে না বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।
অভিযুক্ত দম্পতির বাড়ি নলডাঙ্গা উপজেলার মাধনগর ইউনিয়নের ভট্টপাড়া গ্রামে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, রাশিয়ার ভোরোনেঝ স্টেট ইউনিভার্সিটি অব ফরেস্ট্রি অ্যান্ড টেকনোলজিসে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি পরিশোধসহ বিভিন্ন আর্থিক লেনদেনের সুযোগ কাজে লাগিয়ে তারা বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করেন। পরে একপর্যায়ে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
বিষয়টি সামনে আসার পর বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পেজ থেকেও হৃদয় ও তার স্ত্রী সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে এবং তাদের বিষয়ে তথ্য চাওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী সাইফুল ইসলামের দাবি, টিউশন ফি পরিশোধের জন্য তিনি তিন দফায় মোট চার লাখ ৮০ হাজার টাকা পাঠিয়েছিলেন। টাকা পাঠানোর পর অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। পরে তিনি নলডাঙ্গা থানায় অভিযোগ করেন।
আরেক ভুক্তভোগী ফারুক হোসেন বলেন, ‘আমার ছেলেকে অনেক কষ্ট করে টাকা পাঠাই। এই প্রতারকদের কারণে অনেকে নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে। সরকারের কাছে আকুল আবেদন, এমন প্রতারকদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচার করা হোক।’
ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অভিযুক্ত দম্পতির বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া এবং ভুক্তভোগীদের অর্থ ফেরতের দাবি জানিয়েছেন অনেকে।
অভিযুক্ত হৃদয়ের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার পরিবারের সদস্যরাও এ বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে রাজি হননি।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে হৃদয় তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন। তার দাবি, ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তার অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে দেওয়ায় তিনি আর্থিক সংকটে পড়েছেন। বিষয়টি সমাধানে তিনি আইনজীবীর মাধ্যমে অর্থ উদ্ধারের চেষ্টা করছেন বলেও জানান।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও শ্রমিকদের অর্থ নিয়ে এমন ঘটনা দেশের ভাবমূর্তির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন, অর্থ উদ্ধারের ব্যবস্থা এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
নলডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনোয়ার জাহান বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’








