বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সবশেষ

বাসায় ডেকে কাতারপ্রবাসীকে খুন: প্রেমিকার দোষ স্বীকার, দুইজন রিমান্ডে

কাতার থেকে দেশে ফেরার দেড় মাসের মাথায় খুন হলেন প্রবাসী সিফাত উল্লাহ। রাজধানীর সবুজবাগের মাদারটেক এলাকায় মোটরসাইকেলে করে পৌঁছানোর পর তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করে রাস্তায় ফেলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে এখন সামনে এসেছে সিফাতের প্রেমের সম্পর্ক ঘিরে বিরোধের তথ্য। মামলার এজাহার অনুযায়ী, সিফাতের সঙ্গে নাফিজা শেখ নেহার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পরে সিফাত জানতে পারেন, নেহার সঙ্গে সাজিদুল ইসলাম সাজিদেরও প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে নেহার সঙ্গে সিফাতের মনোমালিন্য তৈরি হয়।

এরপরই ঘটনার গতিপথ বদলে যায় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

নেহা সাজিদকে ডাকার পর ৬ সেপ্টেম্বর বিকেল সোয়া ৩টার দিকে সিফাত মোটরসাইকেলে করে সবুজবাগের মাদারটেক আদর্শপাড়া বরইতলা কালভার্ট এলাকায় পৌঁছান। সেখানে আগে থেকেই থাকা আসামিরা তার ওপর হামলা চালায় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাকে গুরুতর আহত করার পর রাস্তায় ফেলে চলে যায় তারা।

স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

আদালতে নেহার স্বীকারোক্তি
হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নতুন মোড় আসে মঙ্গলবার। মামলার তিন আসামিকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। তাদের মধ্যে নাফিজা শেখ নেহা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মতি দেন। পরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। জবানবন্দি শেষে নেহাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়।

একই মামলার আরেক আসামি সাজিদুল ইসলাম সাজিদ এবং আল আমিন হোসেন জয়কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সবুজবাগ থানার উপপরিদর্শক গোলাপ উদ্দিন মাহমুদ তাদের ১০ দিনের রিমান্ড চেয়েছিলেন। শুনানি শেষে ঢাকার আরেক মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেন তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

সাজিদের আইনজীবী রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করেছিলেন। তবে জয়ের পক্ষে কোনো আবেদন করা হয়নি।

গ্রেপ্তার দুজন, মামলায় আসামি সাত
সিফাত হত্যার ঘটনায় তার বাবা জয়নাল আবেদীন সোমবার সবুজবাগ থানায় সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। নেহা, সাজিদ ও জয় ছাড়াও মামলায় আসামি করা হয়েছে আরাফাত, তুহিন, অনিক ও রাব্বীকে।

এর আগে, সোমবার র‍্যাব শাহজাহানপুরের ঝিলপাড়া এলাকা থেকে আল আমিন হোসেন জয় এবং কায়েতপাড়া বালুর মাঠ এলাকা থেকে সাজিদকে গ্রেপ্তার করে। আর হত্যাকাণ্ডের পর নেহাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।

প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক মমিনুল ইসলাম আদালতের আদেশ ও মামলার কার্যক্রমের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

যে প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে তদন্ত
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, সিফাত কাতার থেকে দেশে ফেরার পর নেহার সঙ্গে তার সম্পর্কের মধ্যে সাজিদের উপস্থিতির বিষয়টি জানতে পারেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। এরপর নেহার সাজিদকে ডাকা এবং সিফাতের নির্দিষ্ট একটি স্থানে পৌঁছানোর পর হামলার শিকার হওয়ার ঘটনাগুলো তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

তবে মামলার অভিযোগ ও আদালতে নেহার দেওয়া জবানবন্দি এখন তদন্তের অংশ। হত্যাকাণ্ডে কার কী ভূমিকা ছিল এবং সিফাতকে ওই এলাকায় কীভাবে ডেকে নেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে রিমান্ডে থাকা আসামিদের কাছ থেকে তথ্য নেওয়ার চেষ্টা করবে পুলিশ।

সিফাতের পরিবারের করা মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, হামলার পর তাকে রাস্তায় ফেলে চলে যায় হামলাকারীরা। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো যায়নি।

এখন তদন্তের কেন্দ্রে রয়েছে, প্রেমের সম্পর্ক ঘিরে তৈরি বিরোধই কি সিফাত হত্যার কারণ, নাকি এর পেছনে আরও কোনো বিষয় ছিল। নেহার জবানবন্দি ও রিমান্ডে থাকা দুই আসামির কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে তদন্তকারী সংস্থা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *