বিদেশে হয়রানি, প্রতারণা ও আইনি জটিলতায় পড়া বাংলাদেশিদের পাশে রাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তার অভিযোগ, প্রবাসীদের সুরক্ষা ও সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে বারবার ব্যর্থ হচ্ছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়।
প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে দেশের অর্থনীতি উপকৃত হলেও বিদেশের মাটিতে সংকটে পড়লে তারা কতটা রাষ্ট্রীয় সহায়তা পাচ্ছেন, এ প্রশ্ন সামনে এনেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তার বক্তব্যে প্রবাসীদের অর্থনৈতিক অবদানের বিপরীতে তাদের নিরাপত্তা, অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় সরকারের দায়িত্বের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করেন। পাটওয়ারীর দাবি, প্রবাসীদের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে দুই মন্ত্রণালয় বারবার ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে।
বিদেশে সংকট, রাষ্ট্রীয় সহায়তা নিয়ে প্রশ্ন
পাটওয়ারীর বক্তব্য অনুযায়ী, বিদেশে বাংলাদেশিদের সংকট শুধু আর্থিক ক্ষতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। হয়রানি, প্রতারণা, আইনি জটিলতা এবং অধিকারবঞ্চনার মতো পরিস্থিতিও তাদের মোকাবিলা করতে হয়। এসব ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা পেতে প্রবাসীদের হিমশিম খাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
তার বক্তব্যের মূল প্রশ্ন হলো, দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা নাগরিকেরা বিদেশে বিপদে পড়লে তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখছে।
অর্থনীতিতে অবদান, কিন্তু অধিকার নিশ্চিতের দায় কার?
প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করে এবং এর সুফল রাষ্ট্রও ভোগ করে, পোস্টে এই বাস্তবতার কথা উল্লেখ করেন পাটওয়ারী। তার মতে, রেমিট্যান্সের সুবিধা গ্রহণ করলেও সংকটে থাকা প্রবাসীদের পাশে না দাঁড়ানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি প্রবাসীদের কেবল রেমিট্যান্স পাঠানোর মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করার বিরোধিতা করেন। তার বক্তব্যে প্রবাসীদের বাংলাদেশের নাগরিক, অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার এবং বিদেশের মাটিতে দেশের মর্যাদার প্রতিনিধি হিসেবে দেখার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
দায়িত্ব পালনে জবাবদিহির প্রশ্ন
পাটওয়ারীর বক্তব্যের মধ্য দিয়ে প্রবাসীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সরকারের দায়িত্ব ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর ভূমিকা নিয়ে জবাবদিহির প্রশ্ন সামনে এসেছে। বিদেশে বিপদে পড়া নাগরিকদের সহায়তা, তাদের অধিকার রক্ষা এবং মর্যাদা নিশ্চিত করার বিষয়গুলোকে তিনি সরকারের দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তিনি স্পষ্ট করেন, প্রবাসীদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষা করা কোনো সরকারি অনুগ্রহ নয়; এটি সরকারের দায়িত্ব।
তবে তার পোস্টে নির্দিষ্ট কোনো ভুক্তভোগীর ঘটনা, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কোনো সিদ্ধান্ত কিংবা ব্যর্থতার পক্ষে বিস্তারিত নথি তুলে ধরা হয়নি। ফলে দুই মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে তার অভিযোগের নির্দিষ্ট ভিত্তি এবং প্রবাসীদের সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে বিদ্যমান সমস্যার ব্যাপ্তি সম্পর্কে বিস্তারিত মূল্যায়নের জন্য আরও তথ্য প্রয়োজন।








