বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

সবশেষ

কোরিয়ার নির্মাণ ও মৌসুমি শ্রমবাজারে বাংলাদেশিদের সুযোগ বাড়াতে উদ্যোগ

দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র তৈরি এবং দেশটির শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার বিষয়ে আলোচনা করেছে বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে সিউলে দেশটির কর্মসংস্থান ও নির্মাণ খাতের দুটি সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক, এমপি।

বৈঠকগুলোতে কর্মসংস্থান পারমিট সিস্টেমের (ইপিএস) আওতায় বাংলাদেশিদের কাজের সুযোগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি মৌসুমি চাকরি, নির্মাণ খাতে নিয়োগ, কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং কোরীয় ভাষা শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। দুই দেশের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়িয়ে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের পথ তৈরির বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে।

ইপিএসের বাইরে নতুন কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র অনুসন্ধান
দক্ষিণ কোরিয়ার ন্যাশনাল এমপ্লয়মেন্ট সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন অব কোরিয়ার (NESA) প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য ইপিএসের আওতায় কাজের সুযোগ বাড়ানোর আহ্বান জানান। একই সঙ্গে নিয়মিত নিয়োগের পাশাপাশি মৌসুমি কর্মসংস্থান এবং দক্ষতা উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে যৌথ উদ্যোগ নেওয়ার প্রস্তাব দেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিল্পোন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় দক্ষিণ কোরিয়ার অভিজ্ঞতা থেকে বাংলাদেশ উপকৃত হতে পারে। দেশটির শ্রমবাজারে যেসব দক্ষতার চাহিদা রয়েছে, সেসব বিবেচনায় নিয়ে প্রশিক্ষিত ও যোগ্য কর্মী প্রস্তুত করতে বাংলাদেশ প্রস্তুত।

বৈঠকে কোরীয় ভাষা শিক্ষা, পেশাভিত্তিক প্রশিক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগিতায় বাংলাদেশি কর্মীদের অবদান ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। কর্মীরা যাতে দেশটিতে যাওয়ার আগেই ভাষার ব্যবহারিক জ্ঞান ও সংশ্লিষ্ট কাজের প্রশিক্ষণ অর্জন করতে পারেন, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

আলোচনায় উঠে আসে, কর্মক্ষেত্রের ভাষা বুঝতে পারা এবং কাজের ধরন সম্পর্কে আগাম ধারণা থাকা বিদেশি কর্মীদের নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

নির্মাণ খাতে বাংলাদেশি কর্মীদের যুক্ত করার প্রস্তাব
দক্ষিণ কোরিয়ার কনস্ট্রাকশন অ্যাসোসিয়েশন অব কোরিয়ার (CAK) প্রতিনিধিদের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে দেশটির নির্মাণশিল্পে বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়টি তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বাংলাদেশি কর্মীদের আন্তর্জাতিক নির্মাণ খাতে কাজের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে দক্ষিণ কোরিয়ার নির্মাণপ্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান। পাশাপাশি কর্মীদের কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকারের অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেন।

বৈঠকে CAK এবং দক্ষিণ কোরিয়ার শীর্ষস্থানীয় নির্মাণপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা নিরাপদ কর্মপরিবেশ, কার্যকর যোগাযোগ এবং নির্দিষ্ট কাজের জন্য প্রয়োজনীয় কারিগরি দক্ষতার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাদের আলোচনায় ব্যবহারিক কোরীয় ভাষায় দক্ষ এবং নির্মাণকাজে প্রয়োজনীয় যোগ্যতাসম্পন্ন বাংলাদেশি কর্মীদের নিয়োগের সম্ভাবনাও উঠে আসে।

দক্ষতা ও প্রাক্‌-প্রস্থান প্রস্তুতিতে গুরুত্ব
দুটি বৈঠকেই কর্মীদের বিদেশযাত্রার আগে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিশ্চিত করা এবং নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষতা গড়ে তোলার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। পাশাপাশি দুই দেশের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ জোরদার করে নতুন কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র চিহ্নিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়।

আলোচনায় উঠে আসা বিষয়গুলোর দ্রুত ও কার্যকর অগ্রগতি নিশ্চিত করতে দক্ষিণ কোরিয়ার সংশ্লিষ্ট দপ্তর এবং সিউলে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখার নির্দেশনা দেন প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক।

দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন কাজের ক্ষেত্র অনুসন্ধান, প্রশিক্ষণের মান উন্নয়ন এবং নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে বৈঠকগুলোতে আলোচিত কর্মসংস্থানের সুযোগ বাস্তবে কতটা সম্প্রসারিত হবে, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর পরবর্তী পদক্ষেপ ও উদ্যোগ বাস্তবায়নের ওপর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *