বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

সবশেষ

২৪ ঘণ্টার ১৬ ঘণ্টাই থাকছে না বিদ্যুৎ

নাটোরের লালপুরের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মাঝারি তাপপ্রবাহ। গতকাল বুধবার দিনের তাপমাত্রা ছিল ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বৈশাখের তীব্র গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে লোডশেডিং। দিনরাত সমানতালে বিদ্যুৎ বিভ্রাটে স্থবির হয়ে পড়েছে জীবনযাত্রা। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১৬ ঘণ্টাই থাকছে না বিদ্যুৎ।

কৃষি, শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে শুরু করে শিক্ষাক্ষেত্র সবখানেই লোডশেডিংয়ের নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। গরম যত বাড়ছে, লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি তত বাড়ছে। সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েছে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা।

বুধবার দুপুরে চাহিদা ছিল ২০ মেগাওয়াট, সেখানে পাওয়া গেছে ৭ মেগাওয়াট। চাহিদার তুলনায় ১৩ মেগাওয়াট কম পাওয়ায় লোডশেডিং বেশি হচ্ছে বলে জানিয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ। তবে কবে নাগাদ এই সমস্যার সমাধান হবে, তাও বলতে পারছে না পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ।

গতকাল বুধবার সকাল ৬টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত দেড় থেকে দুই ঘণ্টা পরপর ছয়বার লোডশেডিং হয়েছে। সর্বশেষ বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে বিদ্যুৎ চলে যায়, আসে রাত ৫টা ৩০ মিনিটে।

লালপুরের এসএসসি পরীক্ষার্থী প্রান্তিক ইসলাম বলে, ‘একদিকে গরম, তার ওপরে বিদ্যুৎ থাকে না। ফলে ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারছি না।’ তার দাবি, প্রতিদিন রাত-দিনে কতবার যে বিদ্যুৎ যায়, তার কোনো ঠিক নেই। দিনরাত মিলে ১৫-১৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। গত মঙ্গলবার তাদের পরীক্ষা চলাকালেও এক ঘণ্টা লোডশেডিং হয়েছে। তীব্র গরমে পরীক্ষার হলে বসে থাকা মুশকিল হয়ে পড়েছিল।

গোপালপুর পৌর এলাকার পরীক্ষার্থী আব্দুল আওয়াল জানায়, একে তো প্রচণ্ড গরম, তার ওপর ১৫-১৬ ঘণ্টা লোডশেডিং। এ কারণে পরীক্ষার প্রস্তুতি ভালোভাবে নিতে পারছে না তারা। রাতে-দিনে কোনো সময়ই পড়া যাচ্ছে না। এর সমাধান দরকার।

ওয়ালিয়া গ্রামের গৃহিণী আঁখি খাতুন বলেন, সারাদিনে কতবার বিদ্যুৎ যায়, তার হিসাব নেই। একবার বিদ্যুৎ গেলে দেড় থেকে দুই ঘণ্টা পরে আসে। তীব্র গরমে আর লোডশেডিংয়ের কারণে ছোট ছোট বাচ্চারা ঠিকমতো ঘুমাতে পারে না। ঠিকমতো পড়াশোনাও হচ্ছে না। সংসারের কাজও ঠিকমতো করা যচ্ছে না।

লালপুরের আটোচালক ইনছার আলী জানান, এই অটোরিকশা চালিয়েই তাঁর সংসার চলে। গত রাতে পাঁচ-ছয় ঘণ্টা বিদ্যুৎ ছিল না, ফলে ব্যাটারি ঠিকমতো চার্জ হচ্ছে না। চার্জ না থাকায় ঠিকমতো ভাড়াও মারতে পারছেন না। সংসার চালানোই মুশকিল হয়ে গেছে।

সাইদুল ইসলাম নামে একজন বলেন, ‘গরমের কারণে ঘরে গিয়ে একটু ফ্যানের বাতাস খাব তারও উপায় নেই। গরমে আর লোডশেডিংয়ে ঘরে-বাইরে কোথাও শান্তি নেই। ভোর ৬টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত সাত ঘণ্টা লোডশেডিং হয়েছে। বসবাস করাই মুশকিল হয়ে গেছে।’

ঈশ্বরদী আবহাওয়া অফিসের পর্যাবেক্ষক নাজমুল হকের ভাষ্য, বুধবার বিকেল ৩টায় ঈশ্বরদী আবহাওয়া অফিসে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে সর্বোচ্চ ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত মঙ্গলবার ছিল ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঈশ্বরদী ও এর আশপাশের অঞ্চলের ওপর দিয়ে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় ভ্যাপসা গরম অনুভূত হচ্ছে।

নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর লালপুর জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) রেজাউল করিম খান বলেন, বুধবার দিনে চাহিদা ছিল ২০ মেগাওয়াট, সেখানে পাওয়া গেছে ৭ মেগাওয়াট। গত মঙ্গলবার রাতে পিক আওয়ারে চাহিদা ছিল ২৬ মেগাওয়াট, সেখানে পাওয়া যায় ১৩ মেগাওয়াট। মোট চাহিদার অর্ধেক বিদ্যুৎও পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে আটটি ফিডারে পর্যায়ক্রমে দেড় ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের পর এক ঘণ্টা করে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। কখনও তাও করা যাচ্ছে না। এই হিসাবে ২৪ ঘণ্টায় ১৬ ঘণ্টাও বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, এটি জাতীয় সমস্যা। জ্বালানি সংকটের কারণে বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। যার কারণে করতে হচ্ছে। এটি কবে নাগাদ সমাধান হবে, তাও এই মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না।

বিষয়:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *