রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

সবশেষ

পাঁচ শর্তে আটকে আছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা

দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও প্রায় দুই মাস ধরে চলা যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে আলোচনা শুরু হলেও বেশ কিছু মৌলিক শর্তে দুপক্ষের বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়ে গেছে। দুই দেশের মধ্যে একটি স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে বাধা হয়ে থাকা প্রধান পাঁচ শর্ত নিচে তুলে ধরা হলো:

পারমাণবিক কর্মসূচি

যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করে দিক। তবে তেহরান এ দাবিতে রাজি নয়। তার ভাষ্য, পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধে যেকোনো ধরনের বিধিনিষেধ শুধু নির্দিষ্ট কয়েক বছরের জন্য হতে পারে, স্থায়ীভাবে নয়।

ইউরেনিয়াম মজুত

ইরানের কাছে বর্তমানে ৪০০ কেজি (৮৮০ পাউন্ড) উচ্চ মাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চান, এই ইউরেনিয়ামের পুরোটা যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজতে থাকবে। তবে তেহরান এ প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।

হরমুজ ও বন্দর অবরোধ

ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের বন্দরগুলোর ওপর থেকে অবরোধ প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ বহাল থাকবে। অন্যদিকে ট্রাম্পের অবস্থান হলো, চূড়ান্ত কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর আগে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর থেকে অবরোধ তুলে নেওয়া হবে না।

আটকা পড়া অর্থ

একটি দীর্ঘস্থায়ী চুক্তির অংশ হিসেবে ইরান তাদের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও বিদেশে আটকা পড়ে থাকা প্রায় ২ হাজার কোটি (২০ বিলিয়ন) ডলার অর্থ ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ

আলোচনায় ইরান এক বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে। তেহরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় তাদের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার বিনিময়ে দেশ দুটিকে দিতে হবে প্রায় ২৭ হাজার কোটি (২৭০ বিলিয়ন) ডলার ক্ষতিপূরণ।

তথ্যসূত্র: আল–জাজিরা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *