মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে টানা তৃতীয় রাতের মতো কুয়েতে ড্রোন হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে ইরানের বিরুদ্ধে। সর্বশেষ হামলায় দেশটির একটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র ও একটি পানি বিশুদ্ধকরণ প্ল্যান্টে আগুন ধরে যায়। এতে দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে কুয়েতি কর্তৃপক্ষ।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার (গতকাল) রাতে ইরানের নিক্ষিপ্ত ড্রোনের আঘাতে কুয়েতের ওই দুই স্থাপনায় আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও বিদ্যুৎকেন্দ্রের একাধিক জেনারেটর ইউনিট পুড়ে যায়।
রোববার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় কুয়েতের বিদ্যুৎ, পানি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানায়, গত তিন দিনের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্র ও পানি বিশুদ্ধকরণ প্ল্যান্ট হামলার শিকার হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের দাবি, ইরানের ড্রোন হামলাতেই এসব স্থাপনায় আগুন লাগে এবং এতে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ক্ষতি হয়েছে।
এর আগে, শনিবার কুয়েতের একটি তেল ডিপোতে ড্রোন হামলার অভিযোগ আনা হয় ইরানের বিরুদ্ধে। এছাড়া শুক্রবারও দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্র ও পানি সরবরাহ স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা হয়েছিল বলে জানিয়েছে কুয়েতি কর্তৃপক্ষ।
এদিকে একই দিনে বাহরাইনের রাজধানী মানামার আশপাশের এলাকাগুলোতেও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। বাহরাইন সরকারের দাবি, ইরান দেশটির বেসামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করেই এই হামলা চালিয়েছে। উল্লেখ্য, বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদরদপ্তর অবস্থিত।
তবে হামলার লক্ষ্যবস্তু নিয়ে ভিন্ন দাবি করেছে ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) সোমবার সকালে এক বিবৃতিতে জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক হামলার জবাবে রোববার কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটির একাধিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করেই ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে।








