অবৈধ সমুদ্রপথে ইতালি যাওয়ার ঝুঁকি কমাতে বাংলাদেশিদের জন্য বৈধ অভিবাসনের সুযোগ কাজে লাগানোর ওপর জোর দিয়েছে ইতালি। দেশটির রাষ্ট্রদূত অ্যান্তোনিও আলেসান্দ্রো জানিয়েছেন, বৈধ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ থেকে প্রায় ১০ হাজার শ্রমিক ইতালিতে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান এবং প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সঙ্গে বৈঠক করেন ইতালির রাষ্ট্রদূত। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব তথ্য জানান প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে ইতালিতে যাওয়া শ্রমিকদের বড় একটি অংশ শরীয়তপুর ও মাদারীপুরের বাসিন্দা। এসব অঞ্চলের অনেক মানুষ দালালের মাধ্যমে লিবিয়া হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে ইতালি যাওয়ার চেষ্টা করেন। বিষয়টি নিয়ে বৈঠকে উদ্বেগ জানিয়েছেন ইতালির রাষ্ট্রদূত।
অবৈধ অভিবাসনের প্রবণতা কমাতে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করে শরীয়তপুর, মাদারীপুর ও ফরিদপুরে সচেতনতামূলক কর্মশালা আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব কর্মসূচিতে অবৈধ পথে বিদেশ যাওয়ার ঝুঁকি এবং বৈধভাবে ইতালিতে কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্পর্কে মানুষকে জানানো হবে।
মীর শাহে আলম বলেন, ইতালি বাংলাদেশ থেকে বৈধভাবে শ্রমিক নেওয়ার সুযোগ রাখছে। প্রায় ১০ হাজার বাংলাদেশি এই সুযোগের আওতায় দেশটিতে যেতে পারবেন। তাই দালালের প্রলোভনে পড়ে বিপজ্জনক পথে পা না বাড়িয়ে সরকারি ও বৈধ প্রক্রিয়ায় ইতালি যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বৈঠকে জানানো হয়, বর্তমানে প্রায় আড়াই লাখ বাংলাদেশি ইতালিতে বসবাস করছেন।
খাদ্য নিরাপত্তায় মিলানের সঙ্গে খুলনার সম্ভাব্য সহযোগিতা
শ্রমিক পাঠানোর পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়ে বাংলাদেশের একটি শহরের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে ইতালির মিলান। এ বিষয়ে খুলনা সিটি করপোরেশনকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
বাংলাদেশি স্থপতিদের দক্ষতা বাড়াতেও সহযোগিতা করতে আগ্রহী ইতালি। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশের একজন সিটি মেয়র ও কয়েকজন স্থপতিকে ইতালিতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া তৃতীয় ভাষা হিসেবে ইতালিয়ান ভাষা শেখানোর ক্ষেত্রেও সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। এতে ইতালি সম্মতি দিয়েছে এবং বাংলাদেশের একটি ইনস্টিটিউটে ইতালিয়ান ভাষার প্রশিক্ষক পাঠানোর কথা জানিয়েছে।
দুই দেশের বাণিজ্য ও রেমিট্যান্সেও গুরুত্ব
ইতালিকে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করে মীর শাহে আলম বলেন, প্রতিবছর বাংলাদেশ ইতালি থেকে প্রায় ২ বিলিয়ন ইউরোর পণ্য আমদানি করে। বিপরীতে ইতালিতে প্রায় ১ দশমিক ৮ বিলিয়ন ইউরোর পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ।
দেশটি বাংলাদেশের রেমিট্যান্সেরও গুরুত্বপূর্ণ উৎস। মোট রেমিট্যান্সের প্রায় ৫ শতাংশ প্রতিবছর ইতালি থেকে আসে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
মালয়েশিয়া ইস্যুতে প্রতিমন্ত্রীর ব্যাখ্যা
বৈঠকে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি পাঠানো নিয়ে নিজের সাম্প্রতিক বক্তব্যের বিষয়টিও ব্যাখ্যা করেন প্রতিমন্ত্রী।
মীর শাহে আলম বলেন, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী নেওয়ার বিষয়ে তিনি দেশটির রাষ্ট্রদূতের কাছে ব্যক্তিগতভাবে অনুরোধ করেছিলেন। এটি সরকারের কোনো সিদ্ধান্ত ছিল না। মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রদূত বিষয়টি বিবেচনা করার কথা জানিয়েছিলেন এবং সেই বক্তব্যই তিনি গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন।
বৈঠক শেষে ইতালির রাষ্ট্রদূত অ্যান্তোনিও আলেসান্দ্রো বলেন, বাংলাদেশ ও ইতালির সম্পর্ক আরও গভীর করার উপায় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি করতে ইতালি অত্যন্ত আগ্রহী।








