ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনায় কয়েক ঘণ্টা পেরোতেই রাজনৈতিক চিত্র স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। ২৯৪ আসনের এই নির্বাচনে চার ঘণ্টার গণনা শেষে দেখা যাচ্ছে, ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ১৬৭টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস ৮২টি আসনে লিড ধরে রেখেছে।
এছাড়া বিজিপিএম, সিপিআই (এম) এবং এআইএসএফ একটি করে আসনে এগিয়ে থাকলেও ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস এখনো কোনো আসনে লিড নিতে পারেনি।
সোমবার (৪ মে) সকাল থেকে ভোট গণনা শুরু হয়। প্রথমে ডাকযোগে দেওয়া পোস্টাল ব্যালট গণনা করা হচ্ছে, এরপর ধাপে ধাপে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) ভোট গণনা চলছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দুপুর নাগাদ ফলাফলের সামগ্রিক প্রবণতা স্পষ্ট হবে, যদিও কিছু কেন্দ্রে চূড়ান্ত ফল পেতে রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।
গত ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় এই নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। আজকের ফলাফলের ওপরই নির্ভর করছে আগামী পাঁচ বছর রাজ্যের ক্ষমতার পালাবদল হবে, নাকি বর্তমান ধারাই বজায় থাকবে।
এবারের নির্বাচনে বিশেষ নজর রয়েছে ভবানীপুর আসনের দিকে, যেখানে মুখোমুখি হয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিরোধীদলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাদের লড়াইয়ের ফলাফল রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর আসন নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তৃণমূলের গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থীদের মধ্যে ফিরহাদ হাকিম (কলকাতা বন্দর), দেবাশীষ কুমার (রাসবিহারী), নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় (চৌরঙ্গী), কুণাল ঘোষ (বেলেঘাটা), শশী পাঁজা (শ্যামপুকুর) এবং মধুপর্ণা ঠাকুরের (বাগদা) ফলাফলও আলোচনায় রয়েছে।
অন্যদিকে বিজেপির প্রার্থীদের মধ্যে রুদ্রনীল ঘোষ (শিবপুর), অগ্নিমিত্রা পাল (আসানসোল দক্ষিণ), অর্জুন সিং (নোয়াপাড়া), তরুণজ্যোতি তিওয়ারি (রাজারহাট-গোপালপুর) এবং পানিহাটিতে আলোচিত প্রার্থী রত্না দেবনাথের ফল নিয়েও আগ্রহ রয়েছে।
এছাড়া বাম ও কংগ্রেস ঘরানার প্রার্থীদের মধ্যেও নজর রয়েছে, বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য, মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়, সায়নদ্বীপ মিত্র; এবং অধীর চৌধুরী, মৌসুম বেনজীর নূর, শুভংকর সরকার, মনোজ চক্রবর্তী, শাহনাজ বেগম ও আবদুর রাজ্জাক মোল্লা। পাশাপাশি ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্টের নওশাদ সিদ্দিকী কেমন ফল করেন, সেটিও দেখার বিষয়।








