ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের পরিচালিত সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মার্কো রুবিও। তিনি জানিয়েছেন, নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জিত হওয়ায় অভিযানটি সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ তথ্য জানান। রুবিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাহিনী তাদের নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণ করতে সক্ষম হয়েছে এবং সেই উদ্দেশ্য সফল হওয়ায় অভিযান শেষ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ইরান ইস্যুতে নতুন কোনো সামরিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনা এখন নেই যুক্তরাষ্ট্রের। তার ভাষায়, বর্তমান পরিস্থিতিতে উত্তেজনা বাড়ানোর কোনো ইচ্ছা ওয়াশিংটনের নেই এবং তারা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান চায়।
রুবিও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি চুক্তির মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী। এ ক্ষেত্রে তিনি ভবিষ্যৎ আলোচনার জন্য একটি কাঠামো বা সমঝোতা স্মারক তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করছেন বলেও জানান। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনার অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। ২০২৫ সালের জুনে এই ইস্যু ঘিরে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে ১২ দিনের সংঘাতের ঘটনাও ঘটে।
এর আগে, পারমাণবিক ইস্যুতে সমঝোতার লক্ষ্যে ফেব্রুয়ারি মাসে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে কয়েক দফা আলোচনা হয়। প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে চলা ওই বৈঠকেও কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি। এর পরপরই ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র।
সংঘাত চলাকালে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালায় ইরান। টানা সংঘর্ষ শেষে ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্র, যা বর্তমানে কার্যকর রয়েছে।








