২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় নিজেকে ‘রাজসাক্ষী’ হিসেবে উপস্থাপনের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন পুলিশের সাবেক উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আবদুল জলিল মণ্ডল।
বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ তার জামিন শুনানির সময় এ কথা জানান আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. আলী হায়দার। তিনি আদালতে বলেন, তার মক্কেল গুরুতর হৃদ্রোগে আক্রান্ত এবং তার হৃদপিণ্ডে একাধিক ব্লক রয়েছে, এ অবস্থায় জামিন দেওয়া উচিত।
তবে ট্রাইব্যুনাল এ যুক্তি গ্রহণ করেননি। বিচারকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, এ ধরনের শারীরিক অবস্থাকে জামিনের যথেষ্ট কারণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে না। পরে আইনজীবী আদালতে আরও বলেন, তার মক্কেল পাসপোর্ট জমা দিতে প্রস্তুত এবং বিচারকার্যে সহায়তার জন্য রাজসাক্ষী হতেও রাজি। তিনি দাবি করেন, ২০২৪ সালে দায়ের হওয়া এই মামলায় জলিল মণ্ডল পলাতক ছিলেন না; বরং নিজ বাড়ি থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
যদিও ট্রাইব্যুনাল তার রাজসাক্ষী হওয়ার আগ্রহের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মত দেয়নি, তবে জামিন আবেদন খারিজ করে দেয়।
শুনানি শেষে আইনজীবী জানান, আদালত অনুমতি দিলে তার মক্কেল মামলায় রাজসাক্ষী হিসেবে সহযোগিতা করতে চান।
এদিকে, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা ও চট্টগ্রামে মোট ৫৮ জন নিহত হওয়ার তথ্য শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
উল্লেখ্য, শাপলা চত্বরের ওই ঘটনার মামলায় জলিল মণ্ডলসহ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর, সাবেক প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, বেনজীর আহমেদসহ একাধিক সাবেক কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আসামি হিসেবে রয়েছেন।
গত ৩০ মার্চ রাজধানীর সবুজবাগ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। জানা গেছে, পাবনার বাসিন্দা জলিল মণ্ডল পুলিশ বাহিনীতে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন; এর মধ্যে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার, ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার এবং র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) হিসেবে দায়িত্ব পালন উল্লেখযোগ্য।








