বুধবার, ৬ মে ২০২৬

সবশেষ

ইরান যুদ্ধ বন্ধে এক পাতার সমঝোতা স্মারকে কী কী থাকছে

চলমান সংঘাত থামানো এবং ভবিষ্যৎ পারমাণবিক আলোচনার ভিত্তি গড়ে তুলতে ইরানের সঙ্গে এক পৃষ্ঠার একটি সমঝোতা স্মারক সইয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র, এমনটাই ধারণা হোয়াইট হাউজের। সংশ্লিষ্ট একাধিক মার্কিন কর্মকর্তা ও অবগত সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয়ে তেহরানের অবস্থান জানার অপেক্ষায় আছে ওয়াশিংটন।

যদিও এখনো চূড়ান্ত কিছু হয়নি, তবে যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথমবারের মতো দুই পক্ষকে এতটা কাছাকাছি অবস্থানে দেখা যাচ্ছে। আলোচনায় থাকা খসড়া অনুযায়ী, ইরান সাময়িকভাবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত রাখার প্রতিশ্রুতি দেবে। এর বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র ধাপে ধাপে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং আটকে থাকা বিপুল অর্থ ছাড়ের প্রতিশ্রুতি দিতে পারে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধও প্রত্যাহারের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এই সমঝোতা মূলত একটি কাঠামো হিসেবে কাজ করবে, যার ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী পূর্ণাঙ্গ চুক্তি হবে। ফলে আলোচনা ভেস্তে গেলে আবার সংঘাত শুরু হওয়ার ঝুঁকিও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এমন আশঙ্কার মধ্যেই ওয়াশিংটনের মূল্যায়ন, ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজন চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোকে জটিল করে তুলতে পারে।

পর্দার আড়ালে ১৪ দফার এই খসড়া নিয়ে দর-কষাকষি চালাচ্ছেন মার্কিন প্রতিনিধিরা। এ আলোচনায় যুক্ত আছেন স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার, যারা সরাসরি ও মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।

বর্তমান প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রথমে যুদ্ধ বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হবে এবং এরপর শুরু হবে ৩০ দিনের নিবিড় আলোচনা। এই সময়ে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করা এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা চলবে। সম্ভাব্য বৈঠকের স্থান হিসেবে ইসলামাবাদ বা জেনেভা বিবেচনায় রয়েছে।

সূত্রগুলো বলছে, এই ৩০ দিনের মধ্যে ধাপে ধাপে ইরানের আরোপিত বিধিনিষেধ ও যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া হতে পারে। তবে আলোচনা ব্যর্থ হলে পুনরায় অবরোধ আরোপ বা সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ রাখছে যুক্তরাষ্ট্র।

সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত রাখার সময়সীমা নিয়ে। বিভিন্ন সূত্রের মতে, এটি কমপক্ষে ১২ বছর হতে পারে, যদিও ১৫ বছর পর্যন্ত বাড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। ইরান যেখানে ৫ বছরের প্রস্তাব দিয়েছে, সেখানে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি সীমাবদ্ধতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

এ ছাড়া খসড়ায় এমন শর্ত যুক্ত করার আলোচনা চলছে, যাতে নিয়ম ভাঙলে স্থগিতাদেশের মেয়াদ আরও বাড়ানো যায়। নির্ধারিত সময় শেষে ইরানকে সীমিত মাত্রায় (৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ) ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অনুমতি দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

সমঝোতার অংশ হিসেবে ইরান প্রতিশ্রুতি দেবে যে তারা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না এবং এ ধরনের কার্যক্রমে জড়াবে না। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক তদারকি জোরদার করা হবে, যাতে জাতিসংঘের পরিদর্শকেরা যে কোনো সময় ইরানি স্থাপনায় আকস্মিক পরিদর্শন করতে পারেন।

এর বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা শিথিল করবে এবং বিশ্বজুড়ে আটকে থাকা ইরানের অর্থ ধাপে ধাপে ছাড় দেবে। এমনকি উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশটির বাইরে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে, যা এতদিন তেহরান প্রত্যাখ্যান করে আসছিল।

এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, পুরো চুক্তি একদিনে সম্পন্ন করার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তার মতে, বিষয়টি অত্যন্ত জটিল এবং কার্যকর সমাধানের জন্য ধাপে ধাপে এগোতে হবে। তবে তিনি ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের অবস্থান নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *