নেত্রকোনার মদন উপজেলায় কিশোরী মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার শিক্ষক আমানুল্লাহ মাহমুদী ওরফে সাগরকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। ভুক্তভোগী ১২ বছর বয়সী ওই শিক্ষার্থী অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে এবং এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) নেত্রকোনা অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে শুনানি শেষে বিচারক এ আদেশ দেন। এর আগে, পুলিশ সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে আসামিকে আদালতে হাজির করে।
মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম জানান, আদালতের অনুমতি অনুযায়ী অভিযুক্তকে থানায় এনে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
এর আগে, বুধবার ভোরে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার সোনামপুর এলাকা থেকে র্যাব-১৪ সাগরকে গ্রেফতার করে। পরে ময়মনসিংহে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-১৪-এর অধিনায়ক নয়মুল হাসান বলেন, গ্রেফতার এড়াতে অভিযুক্ত একাধিকবার অবস্থান পরিবর্তন করেছিলেন। টঙ্গী হয়ে তিনি গৌরীপুরে আত্মগোপনে যান এবং মোবাইল ফোন ব্যবহার বন্ধ রাখেন। গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত তার অবস্থান শনাক্ত করা হয়।
র্যাব জানায়, গ্রেফতারের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিও বার্তায় নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছিলেন সাগর।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রায় চার বছর আগে অভিযুক্ত শিক্ষক একটি মহিলা কওমি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন। সেখানে নানাবাড়িতে থেকে পড়াশোনা করত ভুক্তভোগী শিশুটি। পারিবারিকভাবে অসচ্ছল হওয়ায় তার মা সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করতেন।
সম্প্রতি মেয়েটির শারীরিক পরিবর্তন ও অসুস্থতা দেখে সন্দেহ হলে তার মা বাড়িতে এসে খোঁজ নেন। পরে গত ১৮ এপ্রিল মদন উপজেলা শহরের একটি ক্লিনিকে চিকিৎসা পরীক্ষার পর জানা যায়, শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা। এরপরই শিশুটির মা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন।
এদিকে, ভুক্তভোগীর শারীরিক পরীক্ষা করে অন্তঃসত্ত্বার বিষয়টি নিশ্চিত করা চিকিৎসককে হুমকি ও চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে র্যাব অধিনায়ক নয়মুল হাসান বলেন, চিকিৎসকের নিরাপত্তা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক রয়েছে এবং তার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত কথিত ডিএনএ রিপোর্টকে ভিত্তিহীন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।








