নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় নয় বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, দুষ্টুমির ছলে পাম্পারের মাধ্যমে পায়ুপথে বাতাস প্রবেশ করানোর পর গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে রামিম মিয়া নামের ওই শিশু। পরে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
বুধবার (৭ মে) সকালে উপজেলার গজারিয়া বাজার এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। নিহত রামিম স্থানীয় চরকারারদী এলাকার রিপন মিয়ার ছেলে এবং স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মানসিকভাবে কিছুটা অসুস্থ হওয়ায় রামিম প্রায়ই বাজারের বিভিন্ন দোকানে সময় কাটাত। সকালে সে তার দাদা আমজাদ হোসেনের ঢেউটিনের দোকানে আসে। দোকানের বিপরীতে থাকা একটি অটোরিকশা গ্যারেজে গিয়ে কয়েকজনের সঙ্গে হাসি-তামাশায় মেতে ওঠে।
অভিযোগ রয়েছে, ওই সময় গ্যারেজে থাকা তিন ব্যক্তির মধ্যে একজন অপ্রাপ্তবয়স্কও রয়েছে, মজা করার ছলে পাম্পারের সাহায্যে শিশুটির শরীরে বাতাস প্রবেশ করান। এর পরপরই তার পেট অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যায় এবং সে চিৎকার করতে শুরু করে।
স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে নরসিংদীর ১০০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। পরে উত্তরার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সন্ধ্যার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নরসিংদী জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক এ এন এম মিজানুর রহমান বলেন, শিশুটির শরীরে উচ্চচাপে বাতাস প্রবেশের কারণে অভ্যন্তরীণ জটিলতা ও রক্তক্ষরণ হয়ে থাকতে পারে। হাসপাতালে আনার সময় সে তীব্র পেটব্যথা ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিল।
রামিমের বাবা রিপন মিয়া বলেন, ছেলেকে আইসিইউতে নেওয়ার পরও শেষ পর্যন্ত বাঁচানো যায়নি। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহেদ আল-মামুন জানান, ঘটনার পর অভিযুক্তরা এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে এবং এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।








