ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন সমীকরণে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত ইস্যুগুলোকে গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ। বিশেষ করে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির নবায়ন ও তিস্তার পানিবণ্টন নিয়ে দিল্লির সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে চায় ঢাকা। একই সঙ্গে তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত থেকেও সরে আসার কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন নবনিযুক্ত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।
দুই দেশের সম্পর্কে সাম্প্রতিক টানাপোড়েন কাটিয়ে আস্থা ফেরানোর ক্ষেত্রে পানি বণ্টনকে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে দেখছে বাংলাদেশ। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা তিস্তা চুক্তির পাশাপাশি সামনে এসেছে গঙ্গা চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার বিষয়টিও।
১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির ৩০ বছরের মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা। ফলে চুক্তিটি নবায়নের প্রক্রিয়া এখনই শুরু করা প্রয়োজন বলে মনে করছে ঢাকা। অন্যদিকে ২০১১ সালে তিস্তা পানি বণ্টন চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছালেও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আপত্তির কারণে তা আর স্বাক্ষরিত হয়নি। প্রায় দেড় দশক ধরে আটকে থাকা এ ইস্যুতে বাংলাদেশে হতাশাও বাড়ছে।
এর মধ্যেই তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা প্রকল্পে চীনের সম্ভাব্য সম্পৃক্ততা নিয়ে ভারতের উদ্বেগ রয়েছে। তবে এ কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নে বাংলাদেশের অবস্থানে পরিবর্তন আসবে না বলে স্পষ্ট করেছেন হুমায়ুন কবির।
তিনি বলেন, গঙ্গা চুক্তির মেয়াদ ডিসেম্বরে শেষ হওয়ায় নবায়নের বিষয়ে আলোচনা শুরু করা জরুরি। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় কারিগরি মূল্যায়ন করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতা নেওয়া হবে। এরপর বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ যে পক্ষের সঙ্গে কাজ করা সম্ভব হবে, তাদের সঙ্গেই এগিয়ে যাবে ঢাকা।
বিশ্লেষকদের মতে, পানি বণ্টনের মতো স্পর্শকাতর ইস্যুতে বাংলাদেশ একদিকে ভারতের সঙ্গে আলোচনার পথ খোলা রাখছে, অন্যদিকে জাতীয় স্বার্থকে আলোচনার মূল ভিত্তি হিসেবে দেখছে। তিস্তা ও গঙ্গা নদীর পানি বণ্টন সমস্যার সমাধান না হলে দুই দেশের সম্পর্কের টেকসই উন্নয়নও কঠিন বলে মনে করছেন তারা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. ওবায়দুল হক বলেন, তিস্তায় পশ্চিমবঙ্গের আপত্তি থাকলেও বিষয়টি কেবল একটি রাজ্যের সিদ্ধান্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আন্তর্জাতিক নদীর পানি বণ্টনসংক্রান্ত আইন ও কনভেনশনের আলোকে দিল্লিকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে। তার মতে, দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত এ সমস্যাগুলো এখন দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, শুধু উচ্চপর্যায়ের সফর বা কূটনৈতিক যোগাযোগ থাকলেই সম্পর্ক এগিয়ে যায় না; এসব উদ্যোগ থেকে বাংলাদেশের বাস্তব অর্জন কী হচ্ছে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।








