শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সবশেষ

আকামা-পাসপোর্ট নিয়ে দুশ্চিন্তা, সৌদিতে ৩ দিন পর মিলল প্রবাসীর মরদেহ

সৌদি আরবে বৈধ কাগজপত্র নিয়ে দুশ্চিন্তার মধ্যে থাকা এক বাংলাদেশি প্রবাসীর মরদেহ তার নিজ কক্ষ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। আবহা শহরে সোহাগ রানা (৪২) নামে ওই প্রবাসীর মৃত্যুর পর প্রায় তিন দিন মরদেহটি কক্ষেই পড়ে ছিল। পরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার বিষয়টি নিয়ে খোঁজ নিতে গিয়ে তার মরদেহের সন্ধান পান সহকর্মীরা।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে সোহাগের পরিবারের পক্ষ থেকে তার মৃত্যুর বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানানো হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে আবহা শহরের বাসা থেকে সৌদি পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

সোহাগ রানা নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের হাফেজ উল্যাহ মিয়ার বাড়ির বশির উল্যাহর ছেলে। তিনি দুই কন্যাসন্তানের বাবা ছিলেন।

পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাত বছরেরও বেশি সময় ধরে সৌদি আরবে অবস্থান করছিলেন সোহাগ। এর আগে তিনি দুবাইতেও ছিলেন। সৌদি আরবে থাকার সময় গত কয়েক মাস ধরে তার আকামা ছিল না। একই সঙ্গে পাসপোর্টের মেয়াদও শেষ হয়ে গিয়েছিল। কাগজপত্র নবায়নের জন্য তিনি বেশ কিছুদিন ধরে চেষ্টা করছিলেন। এ নিয়ে মানসিকভাবে হতাশায় ছিলেন বলে জানিয়েছেন তার স্বজনরা।

সোহাগের মামাতো ভাই ও সৌদি প্রবাসী সৈয়দ রিগানের ভাষ্য, গত সোমবার সোহাগ কর্মস্থলের দোকানে যাননি। প্রথম দিন তাকে না পেয়ে সহকর্মীরা ধারণা করেছিলেন, হয়তো অসুস্থতার কারণে কাজে আসেননি। কিন্তু পরপর দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনও তিনি দোকানে না আসায় বিষয়টি তার কফিলকে জানানো হয়।

পরে কফিল ও অন্যরা সোহাগের বাসায় গিয়ে দেখতে পান, ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ। দীর্ঘ সময় ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে শেষ পর্যন্ত দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন তারা। সেখানে কক্ষের মধ্যে সোহাগের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়।

পরে খবর দেওয়া হলে সৌদি পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। প্রাথমিকভাবে চিকিৎসকদের ধারণা, অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা থেকে স্ট্রোক করে সোহাগের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।

সোহাগের আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে এনে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের জন্য বাংলাদেশ দূতাবাসের সহযোগিতা চেয়েছে স্বজনরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *