শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সবশেষ

বাড়ি ফেরার অপেক্ষায় ছিল পরিবার, বিমানবন্দরের পথেই থেমে গেল প্রবাসী আলিফের জীবন

সাত বছর পর দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ার তরুণ আলিফ আহমেদ চন্দন। বৃহস্পতিবারই (৩ সেপ্টেম্বর) তার দেশে ফেরার কথা ছিল। একমাত্র ছেলেকে কাছে পাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন বাবা-মা, স্ত্রীসহ স্বজনেরা। দীর্ঘদিন পর বাড়িতে ফেরাকে ঘিরে পরিবারে ছিল আনন্দের প্রস্তুতি।

কিন্তু সেই ফেরার দিনেই এল তার মৃত্যুর খবর।

সৌদি আরবের দাম্মাম বিমানবন্দরে যাওয়ার পথে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন ২৪ বছর বয়সী আলিফ। বৃহস্পতিবার দুপুরে বিমানবন্দরের উদ্দেশে যাত্রাকালে তাকে বহনকারী একটি প্রাইভেটকারের সঙ্গে লরির সংঘর্ষ হয়। এতে আলিফসহ সাতজনের মৃত্যু হয়।

আলিফ কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মরুরা গ্রামের আব্দুল হাইয়ের ছেলে। দুই বোনের একমাত্র ভাই ছিলেন তিনি। প্রায় সাত বছর ধরে সৌদি আরবের দাম্মামে প্রবাসজীবন কাটাচ্ছিলেন এই তরুণ।

পরিবারের সদস্যরা জানান, দেশে ফেরার সব প্রস্তুতি আগেই শেষ করেছিলেন আলিফ। তাকে বরণ করে নিতে পরিবারের মধ্যেও চলছিল নানা আয়োজন। দীর্ঘদিন পর ছেলেকে কাছে পাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন বাবা-মা। স্ত্রীও অপেক্ষা করছিলেন স্বামীর ফেরার দিনটির জন্য।

কিন্তু বিমানবন্দরে যাওয়ার পথেই ঘটে যায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।

সৌদি আরবে থাকা আলিফের মামা ওমর ফারুক বলেন, সাত বছর ধরে দাম্মামে ছিল চন্দন। বৃহস্পতিবার বাড়ি ফেরার কথা ছিল। সবকিছু গুছিয়ে বিমানবন্দরে যাওয়ার সময় প্রাইভেটকারটি একটি লরির সঙ্গে দুর্ঘটনার শিকার হয়। এতে চন্দনসহ সাতজন মারা যান।

স্বজনদের ভাষ্য, এর আগে ছুটিতে দেশে এসে বিয়ে করেছিলেন আলিফ। দেশে ফিরে বাবা-মায়ের সঙ্গে সময় কাটানোর পাশাপাশি স্ত্রীকে নিয়ে নতুনভাবে সংসার শুরু করার পরিকল্পনাও ছিল তার। প্রবাসের দীর্ঘ সময় শেষে দেশে ফিরে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার যে স্বপ্ন দেখছিলেন, দুর্ঘটনায় তা আর পূরণ হলো না।

আলিফের স্ত্রীও স্বামীর ফেরার অপেক্ষায় ছিলেন। দীর্ঘদিন পর স্বামী দেশে ফিরবেন, এই আনন্দের বদলে তাকে শুনতে হয়েছে তার মৃত্যুর খবর।

দুই বোনের একমাত্র ভাই হওয়ায় পরিবারের কাছে আলিফ ছিলেন বিশেষভাবে আদরের। তার দেশে ফেরাকে ঘিরে যে বাড়িতে আনন্দের প্রস্তুতি চলছিল, সেখানেই এখন শোক আর আহাজারি। মৃত্যুর খবর পৌঁছানোর পর থেকেই মরুরা গ্রামের বাড়িতে ভিড় করছেন স্বজন, প্রতিবেশী ও পরিচিতজনেরা।

এলাকাবাসীরাও আলিফের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে শোকাহত। দীর্ঘ সাত বছর বিদেশে থাকার পর দেশে ফেরার পথেই একজন তরুণের প্রাণ হারানোর ঘটনা মেনে নিতে পারছেন না তারা।

পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রূপম দাস বলেন, এটি খুবই দুঃখজনক ঘটনা। আনুষ্ঠানিকভাবে আমরা এখনো তথ্য পাইনি। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি জেনেছি। খোঁজখবর নিয়ে পরিবারটিকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সৌদি আরব থেকে আলিফের মরদেহ দেশে আনার প্রক্রিয়া চলছে। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহ দেশে পৌঁছালে পারিবারিকভাবে তার দাফনের ব্যবস্থা করা হবে।

সাত বছর প্রবাসজীবন শেষে যে দিনটি হওয়ার কথা ছিল ঘরে ফেরার আনন্দের, সেই দিনটিই এখন আলিফের পরিবারের কাছে হয়ে থাকল সবচেয়ে বেদনাবিধুর স্মৃতি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *