বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

পদত্যাগ করবেন না মমতা, পশ্চিমবঙ্গে জারি হতে যাচ্ছে রাষ্ট্রপতি শাসন

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের বড় ধরনের পরাজয়ের পর রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নতুন মোড় নিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফলাফলকে ‘জনরায় হিসেবে প্রত্যাখ্যানযোগ্য’ বলে ইঙ্গিত দিয়ে এখনই পদত্যাগ না করার অবস্থান নিয়েছেন। তবে বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাত ১২টার পর বর্তমান সরকারের সাংবিধানিক মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় রাজ্যে প্রশাসনিক শূন্যতা তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।

ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, বিজেপি আগামী ৯ মে রবীন্দ্র জয়ন্তীর দিন নতুন মন্ত্রিসভার শপথ আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর মধ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব না ছাড়েন, তাহলে শুক্রবার অন্তর্বর্তী সময়ের জন্য পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না সাংবিধানিক বিশ্লেষকেরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে এমন পরিস্থিতির নজির খুব কম। সাধারণত নির্বাচনে পরাজয় নিশ্চিত হওয়ার পর বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যপালের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। এরপর নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়া পর্যন্ত তাকে কেয়ারটেকার প্রশাসনের দায়িত্ব পালন করতে বলা হয়।

এই অন্তর্বর্তী সরকার কেবল দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজ চালাতে পারে, বড় কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। কেন্দ্রীয় সরকার এবং বিভিন্ন রাজ্যেও একই সাংবিধানিক রীতি অনুসরণ করা হয়। উদাহরণ হিসেবে তামিলনাড়ুর কথা উল্লেখ করা হচ্ছে, যেখানে সরকারের মেয়াদ শেষ হলেও মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন পদত্যাগ করে কেয়ারটেকার দায়িত্ব পালন করছেন।

কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে পরিস্থিতি আলাদা। কারণ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেননি। সংবিধানের ১৭২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের পর বিদায়ী সরকারের ক্ষমতায় থাকার সুযোগ নেই। ফলে মেয়াদ শেষ হওয়ার পর রাজ্যে সাংবিধানিক সংকট তৈরি হলে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির পথ খুলে যেতে পারে।

এদিকে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী কর্মকর্তা মনোজ আগরওয়াল ইতোমধ্যে ২৯৩টি আসনের নির্বাচিত বিধায়কদের তালিকা রাজ্যপালের কাছে হস্তান্তর করেছেন। এখন সংখ্যাগরিষ্ঠ দলকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানানো এবং শপথের দিনক্ষণ নির্ধারণের দায়িত্ব রাজ্যপালের ওপর।

জ্যেষ্ঠ আইনজীবী হরিশ সালভে গণমাধ্যমকে বলেন, ৭ মে সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবিধানিকভাবে মুখ্যমন্ত্রীর পদে থাকতে পারবেন না। রাজ্যপাল চাইলে তার পদত্যাগ চেয়ে পরবর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়া পর্যন্ত তাকে অন্তর্বর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের অনুরোধ করতে পারেন। তবে সেই সময়ের ব্যবধানে স্বল্প সময়ের জন্য রাষ্ট্রপতি শাসন জারির সম্ভাবনাও থেকে যাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *