মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি দোকান কর্মচারীকে মারধর এবং দোকানে ভাঙচুরের ঘটনায় দুই স্থানীয় যুবককে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। বুধবার, কুয়ালা তেরেঙ্গানু ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ২১ ও ২৩ বছর বয়সী দুই সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে এই রিমান্ডের আদেশ দেন।
পুলিশ জানিয়েছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা প্রায় ৭টা ১৫ মিনিটে ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার সময় ওই বাংলাদেশি নাগরিক একটি মুদি দোকানে কর্মরত ছিলেন। দোকানটি ছিল কামপুং মাক কেমাস এলাকায়।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, তিনজন স্থানীয় যুবক দোকানে প্রবেশ করে। তারা হঠাৎ করেই ওই কর্মচারীর নাগরিকত্ব সম্পর্কে জানতে চায়। একপর্যায়ে তারা তার পাসপোর্টও দেখতে চায়। তবে এর পেছনে কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ ছিল না বলে জানা গেছে। কিছুক্ষণ পর পরিস্থিতি উত্তেজনাকর হয়ে ওঠে।
অভিযোগ অনুযায়ী, একজন যুবক প্রথমে বাংলাদেশি কর্মচারীকে চড় মারে। এরপর রাবারের পাইপ দিয়ে তাকে আঘাত করা শুরু হয়। পরে অন্য যুবকেরাও হামলায় যোগ দেয়। তারা কর্মচারীর মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। শুধু মারধরই নয়, হামলাকারীরা দোকানের ভেতরে থাকা মালামালও তছনছ করে ফেলে। এই ঘটনায় বাংলাদেশি কর্মচারী গুরুতর আহত হন। তার মাথা ও মুখে আঘাত লাগে। ডান কপালে বড় ধরনের ফোলা জখম দেখা যায়।
এছাড়া ডান বাহুতেও কালশিটে দাগ পড়েছে। ঘটনার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু করে মালয়েশিয়ান পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত অভিযান চালিয়ে দুই সন্দেহভাজনকে আটক করে। এরপর তাদের আদালতে হাজির করা হয়। আদালত তদন্তের স্বার্থে সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলাটি মালয়েশিয়ার দণ্ডবিধির ৩২৪ ধারায় নথিভুক্ত করা হয়েছে। এই ধারায় বিপজ্জনক অস্ত্র দিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে আঘাত করার অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া ভাঙচুরের অভিযোগে ৪২৭ ধারাও যুক্ত করা হয়েছে।








