বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের পাঠানো অর্থে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার আরও শক্তিশালী হচ্ছে। চলতি জুন মাসের প্রথম ১৫ দিনেই দেশে এসেছে ১৬২ কোটি ৩৮ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানান।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জুনের প্রথমার্ধে প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে প্রায় ১০ কোটি ৮৩ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। গত বছরের একই সময়ে প্রবাসী আয় ছিল ১৪৭ কোটি ৯৮ লাখ ৬০ হাজার ডলার। ফলে এক বছরের ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।
চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের শুরু থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩ হাজার ৪৩৮ কোটি ৬ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এই প্রবাহ ১৮ দশমিক ৬১ শতাংশ বেড়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতেও প্রবাসী আয়ের ধারাবাহিক ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ করা গেছে। গত মে মাসে দেশে এসেছে ৩৪২ কোটি ৫০ লাখ ৩০ হাজার ডলার, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে একক মাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স প্রবাহ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এর আগে, মার্চ মাসে আসে ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার ডলার, যা দেশের ইতিহাসে এক মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স প্রাপ্তির রেকর্ড গড়ে। এছাড়া এপ্রিলে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ৩১২ কোটি ৭৩ লাখ ডলার।
চলতি বছরের শুরু থেকে ধারাবাহিকভাবে তিনশ কোটি ডলারের আশপাশে বা তার বেশি রেমিট্যান্স এসেছে। জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার ডলার, ফেব্রুয়ারিতে ৩০২ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার এবং মার্চে রেকর্ড ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার ডলার দেশে আসে।
অন্যদিকে, ২০২৪ সালের শেষ দিকেও রেমিট্যান্স প্রবাহ ছিল শক্তিশালী। ডিসেম্বরে আসে ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার এবং নভেম্বরে ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার ডলার। এর আগে অক্টোবরে ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ ৮০ হাজার ডলার ও সেপ্টেম্বরে ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ৮০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স আসে।
অর্থবছরের শুরুতে জুলাই ও আগস্ট মাসেও প্রবাসী আয় ছিল উল্লেখযোগ্য। জুলাইয়ে আসে ২৪৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার এবং আগস্টে ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ৯০ হাজার ডলার।
এদিকে, পুরো ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ ইতোমধ্যে নতুন ইতিহাস গড়েছে। অর্থবছরজুড়ে মোট রেমিট্যান্সের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলার বা ৩ হাজার ৩২ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো এক অর্থবছরে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়ের রেকর্ড।
অর্থনীতিবিদদের মতে, রেমিট্যান্স প্রবাহের এই ধারাবাহিক বৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, আমদানি ব্যয় মেটানো এবং সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।








