ই-পাসপোর্টের আবেদনের চাপ সামলাতে বিপুলসংখ্যক প্রবাসীর বায়োমেট্রিক তথ্য নেওয়ার পর এবার পাসপোর্ট পেতে কিছুটা বেশি সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাস। আবেদনকারীদের তথ্য যাচাই, সংশোধন ও প্রসেসিংয়ের বিভিন্ন ধাপ সম্পন্ন করতে বাড়তি সময় প্রয়োজন হওয়ায় এ বিলম্ব হতে পারে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বার্তায় সৌদি আরবে বসবাসরত বাংলাদেশিদের এ বিষয়ে অবহিত করা হয়।
দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবে ই-পাসপোর্টের চাহিদা সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক বেড়েছে। আগে যেখানে প্রতি মাসে গড়ে ১১ হাজার পাসপোর্টের এনরোলমেন্ট করা হতো, সেখানে গত দেড় মাসে ৬৫ হাজারের বেশি প্রবাসীর বায়োমেট্রিক গ্রহণ করা হয়েছে।
এর মধ্যে ইতোমধ্যে ১৫ হাজার ৪৩৪টি পাসপোর্ট বিতরণ করা হয়েছে। আরও ২৫ হাজার ৪৬৭টি পাসপোর্ট প্রিন্টিং পর্যায়ে রয়েছে। এছাড়া ২১ হাজার ৬৭৮টি পাসপোর্টের ফিঙ্গারপ্রিন্ট গ্রহণের পরবর্তী কার্যক্রম চলছে।
শুধু তাই নয়, বর্তমানে দাম্মাম অঞ্চলে নয় দিনব্যাপী একটি ক্যাম্প পরিচালনা করছে দূতাবাস। সেখানে ১৫ হাজার ২০০টি পাসপোর্ট আবেদনের ফিঙ্গারপ্রিন্ট গ্রহণ করা হচ্ছে।
যেসব কারণে বাড়তে পারে অপেক্ষার সময়
দূতাবাস জানিয়েছে, ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেওয়ার পর পাসপোর্ট তৈরির পরবর্তী ধাপগুলোতে আবেদনকারীদের বিভিন্ন তথ্য যাচাই করতে হয়। এ সময় অনেক আবেদনে তথ্যগত ভুল ধরা পড়ছে।
বিশেষ করে জন্ম নিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের মধ্যে অসংগতি, একাধিক পাসপোর্ট নিয়ে জটিলতা এবং অন্যান্য তথ্যগত সমস্যার কারণে যাচাই ও প্রসেসিং শেষ করতে অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন হচ্ছে।
ফলে বায়োমেট্রিক সম্পন্ন হওয়ার পরই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পাসপোর্ট হাতে পাওয়া সব ক্ষেত্রে সম্ভব নাও হতে পারে বলে জানিয়েছে দূতাবাস।
ধৈর্য ধরার অনুরোধ
পাসপোর্ট পেতে সম্ভাব্য বিলম্বের কারণে প্রবাসীদের ধৈর্য ধরার অনুরোধ করেছে রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাস।
দূতাবাস বলেছে, প্রবাসীদের পাসপোর্ট সেবা আরও দ্রুত ও সহজ করতে তারা সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বিপুলসংখ্যক আবেদনের পাশাপাশি তথ্য যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তাও বিবেচনায় নিয়ে সেবাপ্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
তাই আবেদন-পরবর্তী প্রক্রিয়ায় কিছুটা বাড়তি সময় লাগলে সেবাপ্রত্যাশীদের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ধৈর্য ধারণ করার আহ্বান জানিয়েছে দূতাবাস।








