ইউরোপের শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সম্ভাবনাময় গন্তব্যগুলোর একটি রোমানিয়া। দেশটির নির্মাণশিল্প, উৎপাদন খাত, পরিবহন, হোটেল-রেস্তোরাঁ ও বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে বিদেশি কর্মীদের চাহিদা রয়েছে। স্থানীয় শ্রমিকসংকট মোকাবিলায় প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক বিদেশি কর্মী নিয়োগ করছে দেশটি। ২০২৬ সালেও বিদেশ থেকে ৯০ হাজার নতুন কর্মী নেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্ত রয়েছে।
কিন্তু এই সম্ভাবনার কতটা বাংলাদেশের কর্মীরা কাজে লাগাতে পারছেন? সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বিএওইএসএল) তথ্য বলছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে রোমানিয়ায় গেছেন ১৭৯ বাংলাদেশি। অথচ দেশটির একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির আওতায় ৩১২ কর্মী নেওয়ার চাহিদা পাওয়া গিয়েছিল।
অর্থাৎ রোমানিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর উদ্যোগ ও চাহিদা থাকলেও সেটিকে বড় শ্রমবাজারে রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে এখনো সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ২০২৬ সালে রোমানিয়ার বিদেশি কর্মী নিয়োগব্যবস্থায় পরিবর্তন, ওয়ার্ক পারমিট ও ভিসা আবেদনের নতুন পদ্ধতি এবং WorkinRomania.gov.ro প্ল্যাটফর্মের সাময়িক অচলাবস্থা। ফলে যারা নতুন করে দেশটিতে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের জন্য চাকরির সুযোগ পাওয়ার পাশাপাশি নিয়োগপ্রক্রিয়ার বৈধতা ও বর্তমান অবস্থা যাচাই করাও জরুরি হয়ে উঠেছে।
৯০ হাজার কর্মী নেওয়ার সিদ্ধান্ত, কোন খাতে চাহিদা বেশি?
রোমানিয়া সরকারের ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর জারি করা ১১৬৯ নম্বর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৬ সালে দেশটির শ্রমবাজারে নতুন করে সর্বোচ্চ ৯০ হাজার বিদেশি কর্মী নিয়োগের কোটা নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি দেশটির সামগ্রিক বিদেশি কর্মী নিয়োগের কোটা, শুধু বাংলাদেশিদের জন্য নির্ধারিত সংখ্যা নয়।
ইউরোপীয় কমিশনের মাইগ্রেশন অ্যান্ড হোম অ্যাফেয়ার্স বিভাগের ১৫ জুলাই ২০২৬-এর প্রকাশিত তথ্যেও রোমানিয়ার শ্রমিকসংকটের চিত্র উঠে এসেছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশটির নিয়োগকর্তারা ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮০৩টি শূন্যপদের বিজ্ঞাপন দিয়েছিলেন। একই বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রোমানিয়ায় বৈধ বসবাসের অনুমতি থাকা ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দেশের নাগরিকের সংখ্যা ছিল ২ লাখ ১৪ হাজার ১২৬। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৩৩৪ জন ছিলেন অভিবাসী কর্মী।
২০১৯ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে শ্রম অভিবাসনের ফলে রোমানিয়ার বিভিন্ন খাতে কর্মীর সংখ্যা বেড়েছে। ইউরোপীয় কমিশনের প্রতিবেদনে দেশটির অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের তথ্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, এই সময়ে নির্মাণ খাতে কর্মীর সংখ্যা ৩২১ শতাংশ, শিল্প খাতে ২৫৮ শতাংশ, বাণিজ্যে ১৫৫ শতাংশ এবং সেবাখাতে ৭২৮ শতাংশ বেড়েছে।
তবে সব পেশায় সমান কর্মীসংকট নেই। ইউরোপীয় কর্মসংস্থান নেটওয়ার্ক EURES-এর রোমানিয়া-সংক্রান্ত শ্রমবাজার বিশ্লেষণে কয়েকটি পেশাকে ঘাটতিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
সেগুলোর মধ্যে রয়েছে:
নির্মাণশ্রমিক, রাজমিস্ত্রি ও কংক্রিটের কাজ জানা কর্মী।
প্লাম্বার ও পাইপ ফিটার।
ওয়েল্ডার ও ধাতব কাজের দক্ষ কর্মী।
ভারী ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহনের চালক।
ওয়েটার ও হোটেল-রেস্তোরাঁর কর্মী।
পরিচ্ছন্নতাকর্মী।
মেশিন ও যন্ত্রপাতি পরিচালনাকারী কর্মী।
নিরাপত্তাকর্মী।
অন্যদিকে EURES-এর একই বিশ্লেষণে সাধারণ উৎপাদনশ্রমিক, মালামাল ওঠানো-নামানোর কর্মী, কৃষিশ্রমিক ও হাতে প্যাকেটজাত করার কাজে নিয়োজিত কর্মীদের কিছু ক্ষেত্রে উদ্বৃত্ত পেশার তালিকায় রাখা হয়েছে।
এখানেই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় রয়েছে। রোমানিয়ায় বিদেশি কর্মীর চাহিদা আছে বলেই যেকোনো অদক্ষ শ্রমিকের জন্য চাকরি নিশ্চিত হবে, এমন ধারণা সঠিক নয়। বরং নির্দিষ্ট দক্ষতা, পেশা, নিয়োগকর্তার চাহিদা এবং সরকারি অনুমোদনের ওপর কর্মসংস্থানের সুযোগ নির্ভর করছে।
বিএওইএসএলের মাধ্যমে কতজন গেলেন, খরচ কত ছিল?
বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন জনশক্তি প্রেরণকারী প্রতিষ্ঠান বিএওইএসএলের ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদন রোমানিয়ায় কর্মী পাঠানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসূত্র।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোমানিয়ার Sonoma Sports Wear, Europa Fashion Bangladesh এবং বিএওইএসএলের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি হয়েছিল। বাংলাদেশ দূতাবাস, রোমানিয়ার সত্যায়নসহ ৩১২ জন কর্মী নিয়োগের চাহিদা পাওয়া যায়।
নির্বাচিত কর্মীদের মধ্যে পোশাকশিল্পের দক্ষ কর্মীদের প্রাধান্য ছিল। পদগুলো ছিল:
সেলাই মেশিন অপারেটর।
কাটিং অপারেটর।
ফ্যাক্টরি ম্যানেজার।
টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার।
বিএওইএসএলের প্রতিবেদনে বিভিন্ন পদের বেতন ৪০০ থেকে ৫০০ মার্কিন ডলার উল্লেখ করা হয়েছে। তবে প্রতিবেদনে এই বেতনের সময়কাল মাসিক কি না, তা স্পষ্টভাবে আলাদা করে উল্লেখ করা হয়নি।
চুক্তির মেয়াদ ছিল দুই বছর। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, কর্মীদের আবাসন, খাবার ও চিকিৎসার ব্যয় নিয়োগকর্তার বহন করার কথা ছিল। ওই নিয়োগপ্রক্রিয়ায় বিমানভাড়া, Europa Fashion-এর সার্ভিস চার্জ, বিএওইএসএলের ১৮ হাজার ২৪০ টাকা সার্ভিস চার্জ এবং ভারত থেকে ভিসা-সংক্রান্ত ব্যবস্থাপনাসহ একজন কর্মীর মোট ব্যয় নির্ধারিত হয়েছিল ২ লাখ ৩১ হাজার ২৪০ টাকা।
বিএওইএসএল জানায়, ওই চাহিদার বিপরীতে ১৭৯ জন কর্মী ইতিমধ্যে রোমানিয়ায় গেছেন।
এখানে দুটি বিষয় আলাদা করে দেখা প্রয়োজন। প্রথমত, এটি একটি নির্দিষ্ট নিয়োগচুক্তির হিসাব, রোমানিয়ায় যাওয়ার সর্বজনীন খরচ নয়। দ্বিতীয়ত, এটি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের হিসাব। ২০২৬ সালে রোমানিয়ার দীর্ঘমেয়াদি ভিসা ফি বেড়ে যাওয়ায় ওই পুরোনো প্যাকেজকে বর্তমান খরচ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।
২০২৬ সালে ওয়ার্ক ভিসার ধরন বদলেছে
রোমানিয়ায় কাজ করতে ইচ্ছুক বাংলাদেশিদের জন্য ২০২৬ সালের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো বিদেশি কর্মী নিয়োগের নতুন কাঠামো।
রোমানিয়া সরকারের WorkinRomania.gov.ro প্ল্যাটফর্মের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সাল থেকে কর্মসংস্থানের জন্য মূলত দুই ধরনের দীর্ঘমেয়াদি ভিসা চালু রয়েছে।
১. D/AM1 ভিসা
এটি মূলত উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশি কর্মীদের জন্য। যেমন:
আইটি বিশেষজ্ঞ।
প্রকৌশলী।
অর্থনীতিবিদ।
ব্যবস্থাপক।
উচ্চতর পেশাগত দক্ষতাসম্পন্ন কর্মী।
এ ধরনের কর্মসংস্থানের জন্য সাধারণত কমপক্ষে ছয় মাসের চাকরির চুক্তি প্রয়োজন। নিয়োগকর্তা WorkinRomania প্ল্যাটফর্মে আবেদন করেন।
২. D/AM2 ভিসা
সাধারণ ও মৌসুমি বিদেশি কর্মীদের জন্য এই ভিসা প্রযোজ্য। যেমন:
রাঁধুনি।
গাড়িচালক।
কাঠমিস্ত্রি।
ইলেকট্রিশিয়ান।
কৃষিশ্রমিক।
মৌসুমি কৃষিকাজের কর্মী।
অন্যান্য সাধারণ ও দক্ষ পেশার কর্মী।
বাংলাদেশ থেকে রোমানিয়ায় যেতে আগ্রহী অধিকাংশ সাধারণ ও কারিগরি কর্মীর ক্ষেত্রে D/AM2 প্রক্রিয়াটি বেশি প্রাসঙ্গিক। এই ভিসার জন্য সাধারণত অনুমোদিত বিদেশি কর্মী নিয়োগকারী এজেন্সির মাধ্যমে নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। তবে অনুমোদিত নিয়োগকর্তা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে সরাসরি কর্মী নিয়োগের আবেদনও করতে পারেন।
সরকারি প্ল্যাটফর্মে বলা হয়েছে, কর্মী নিজে এককভাবে নিয়োগের আবেদন জমা দিতে পারেন না। নিয়োগকর্তা বা অনুমোদিত এজেন্সিকে আবেদন করতে হয়।
সেপ্টেম্বর থেকে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় অচলাবস্থা
নতুন নিয়োগব্যবস্থা চালুর পর রোমানিয়ার শ্রমবাজারে আরেকটি জটিলতা তৈরি হয়। রোমানিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৬ আগস্ট WorkinRomania.gov.ro প্ল্যাটফর্ম আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়। এর মাধ্যমে বিদেশি কর্মী নিয়োগের বিভিন্ন প্রক্রিয়া ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়।
কিন্তু ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ বুখারেস্টের আপিল আদালত শ্রম মন্ত্রণালয়ের ১০৭৩/২০২৬ নম্বর আদেশের কার্যকারিতা স্থগিত করেন। ওই আদেশে বিদেশি কর্মীদের জন্য ঘাটতিপূর্ণ পেশার তালিকা অনুমোদন করা হয়েছিল।
এরপর ১৫ সেপ্টেম্বর রোমানিয়ার জেনারেল ইনস্পেক্টরেট ফর ইমিগ্রেশন (IGI) জানায়, আদালতের সিদ্ধান্তের পর WorkinRomania প্ল্যাটফর্মে নিয়োগকর্তার নিবন্ধন, অনুমোদন এবং D/AM2 দীর্ঘমেয়াদি কর্মভিসার একক আবেদন জমা দেওয়ার কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে।
IGI স্পষ্ট করেছে, এটি কোনো প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে হয়নি; আদালতের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই এসব কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে।
এর ফলে সাধারণ ও মৌসুমি বিদেশি কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়ায় বাধা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশি কর্মীদের জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সাধারণ শ্রমিকদের বড় অংশ D/AM2 ভিসার আওতায় পড়েন।
তবে ৩০ অক্টোবর ২০২৬-এ রোমানিয়ার শ্রম আমদানিকারকদের সংগঠন PIFM জানিয়েছে, শ্রম মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে প্ল্যাটফর্ম পুনরায় চালুর বিষয়ে একটি সমাধান হয়েছে। সংগঠনটির দাবি, নভেম্বরের মাঝামাঝি, সর্বোচ্চ ১৫ নভেম্বরের মধ্যে প্ল্যাটফর্ম পুরোপুরি চালু হতে পারে। ঘাটতিপূর্ণ পেশার তালিকাও ২৮৯ থেকে বাড়িয়ে প্রায় ৪০০ করার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে।
তবে এটি PIFM-এর ঘোষিত পরিকল্পনা। ১ নভেম্বর পর্যন্ত রোমানিয়ার সরকারি WorkinRomania ওয়েবসাইটে D/AM2-সংক্রান্ত কার্যক্রম বন্ধ থাকার সতর্কবার্তা দেখা যাচ্ছে। ফলে পুনরায় চালু হওয়ার বিষয়টি সরকারি ঘোষণা দিয়ে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা প্রয়োজন।
ভিসার আবেদন করবেন কীভাবে?
রোমানিয়ার সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, একজন বিদেশি কর্মীর নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরু হয় নিয়োগকর্তার মাধ্যমে।
সাধারণ কর্মীদের ক্ষেত্রে প্রক্রিয়াটি কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হয়।
প্রথম ধাপ: নিয়োগকর্তার কাছ থেকে চাকরির প্রস্তাব
রোমানিয়ার কোনো বৈধ প্রতিষ্ঠান বিদেশি কর্মী নিয়োগ করতে চাইলে প্রথমে নির্দিষ্ট পদে চাকরির প্রস্তাব তৈরি করবে। সেখানে কর্মীর কাজের ধরন, বেতন, চুক্তির মেয়াদ, কর্মঘণ্টা ও আবাসনের তথ্য উল্লেখ থাকতে হবে।
দ্বিতীয় ধাপ: নিয়োগকর্তা বা এজেন্সির নিবন্ধন
D/AM2 ভিসার ক্ষেত্রে অনুমোদিত নিয়োগকারী এজেন্সি অথবা আইনগতভাবে অনুমোদিত নিয়োগকর্তাকে WorkinRomania প্ল্যাটফর্মে প্রয়োজনীয় নিবন্ধন করতে হয়।
তৃতীয় ধাপ: চুক্তি প্রস্তুত
এ ক্ষেত্রে সাধারণত তিন ধরনের চুক্তি প্রয়োজন হয়:
নিয়োগকর্তা ও কর্মীর মধ্যে ব্যক্তিগত চাকরির চুক্তি।
নিয়োগকর্তা ও নিয়োগকারী এজেন্সির মধ্যে সার্ভিস চুক্তি।
এজেন্সি, নিয়োগকর্তা ও কর্মীর মধ্যে ত্রিপক্ষীয় প্লেসমেন্ট চুক্তি।
চুক্তি রোমানিয়ান ভাষার পাশাপাশি কর্মী বোঝেন এমন ভাষায় অথবা আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত কোনো ভাষায় প্রস্তুত করার বিধান রয়েছে।
চতুর্থ ধাপ: সরকারি যাচাই
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিয়োগকর্তার বৈধতা, কর্মীর যোগ্যতা, বেতন, কাজের পরিবেশ, আবাসন এবং বিদেশি কর্মী নিয়োগের বার্ষিক কোটা যাচাই করে।
পঞ্চম ধাপ: ভিসার আবেদন
নিয়োগসংক্রান্ত একক আবেদন অনুমোদিত হলে কর্মী রোমানিয়ার দূতাবাস বা কনস্যুলার অফিসে D/AM2 ভিসার আবেদন করবেন।
ষষ্ঠ ধাপ: রোমানিয়ায় যাত্রা ও রেসিডেন্স পারমিট
ভিসা পাওয়ার পর কর্মী রোমানিয়ায় যেতে পারবেন। সেখানে পৌঁছে কাজের উদ্দেশ্যে অস্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা সিঙ্গেল পারমিট নিতে হবে।
এই পুরো প্রক্রিয়ায় কর্মীর নিজের নামে ওয়ার্ক পারমিট বা চাকরির অনুমোদন তৈরি করে দেওয়ার দাবি করে কোনো এজেন্সি টাকা চাইলে তার বৈধতা যাচাই করা জরুরি।
রোমানিয়ার ওয়ার্ক ভিসার আবেদন ফি কত?
রোমানিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সরকারি eViza ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ফি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২৭ এপ্রিল থেকে দীর্ঘমেয়াদি D শ্রেণির ভিসার আবেদন ফি ৩০০ ইউরো নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আগে ফি ছিল ১২০ ইউরো। অর্থাৎ বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি কর্মভিসার সরকারি ফি এক ধাপে ১৮০ ইউরো বেড়েছে।
ভিসার ধরন ফি
D শ্রেণির দীর্ঘমেয়াদি ভিসা ৩০০ ইউরো
পুরোনো ফি (২৭ এপ্রিলের আগে আবেদন) ১২০ ইউরো
C শ্রেণির স্বল্পমেয়াদি ভিসা ৯০ ইউরো
A শ্রেণির বিমানবন্দর ট্রানজিট ভিসা ৯০ ইউরো
এখানে সাধারণ কর্মীদের জন্য D/AM2-ও D শ্রেণির দীর্ঘমেয়াদি ভিসার অন্তর্ভুক্ত। তাই বর্তমানে এর আবেদন ফি ৩০০ ইউরো।
ফি ইউরো, মার্কিন ডলার অথবা সংশ্লিষ্ট দেশের মুদ্রায় আগের মাসের গড় বিনিময় হারের ভিত্তিতে নেওয়া হতে পারে। আবেদন ফি পরিশোধ না করলে আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না।
অফিশিয়াল ফি যাচাই: https://eviza.mae.ro/VisaFees
ভিসার জন্য কী কী কাগজপত্র লাগবে?
রোমানিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের eViza এবং IGI-এর প্রকাশিত নির্দেশনা অনুযায়ী, কর্মসংস্থানের ভিসার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের মধ্যে রয়েছে:
১. বৈধ পাসপোর্ট।
২. রোমানিয়ার নিয়োগকর্তার সঙ্গে সম্পাদিত ব্যক্তিগত চাকরির চুক্তি।
৩. D/AM2-এর ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় প্লেসমেন্ট চুক্তি এবং সার্ভিস চুক্তি, যদি অনুমোদিত এজেন্সির মাধ্যমে আবেদন করা হয়।
৪. পুলিশ ক্লিয়ারেন্স বা অপরাধসংক্রান্ত রেকর্ড না থাকার সনদ।
৫. ভ্রমণকালীন চিকিৎসা বিমা।
৬. নির্ধারিত সময়ের জন্য আর্থিক সামর্থ্যের প্রমাণ, যেখানে প্রযোজ্য।
৭. সাম্প্রতিক ছবি।
৮. দূতাবাসের চাহিদা অনুযায়ী অন্যান্য সহায়ক কাগজপত্র।
পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সনদ রোমানিয়ান, ইংরেজি অথবা ফরাসি ভাষায় অনূদিত এবং আইন অনুযায়ী বৈধায়িত হতে হবে।
চিকিৎসা বিমার ক্ষেত্রে ন্যূনতম কভারেজ ৩০ হাজার ইউরো হতে হবে। এতে জরুরি চিকিৎসা, হাসপাতালে ভর্তি এবং চিকিৎসাজনিত কারণে দেশে ফেরত পাঠানোর খরচ অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে।
এখানে ৩০ হাজার ইউরো বিমার কভারেজের পরিমাণ; এটি বিমার প্রিমিয়াম বা কর্মীর পরিশোধযোগ্য খরচ নয়।
পাসপোর্টের মেয়াদ, ছবি, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স, অনুবাদ ও বৈধায়নের বিষয়ে আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের সর্বশেষ নির্দেশনা দেখে নেওয়া প্রয়োজন।
বাংলাদেশ থেকে কোথায় ভিসার আবেদন করবেন?
বাংলাদেশে রোমানিয়ার পূর্ণাঙ্গ দূতাবাস ও নিয়মিত কনস্যুলার কার্যক্রম না থাকায় ভিসাপ্রার্থীদের জন্য আবেদন জমা দেওয়ার স্থান একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
বাংলাদেশিদের ভিসা আবেদন সাধারণত নয়াদিল্লিতে অবস্থিত রোমানিয়ার দূতাবাসের মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে আসছে। ২০২৫ সালের ৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষার্থী ও পরিবার পুনর্মিলন ভিসার আবেদন নয়াদিল্লির পাশাপাশি কুয়ালালামপুর, হ্যানয় ও ব্যাংককের রোমানীয় কূটনৈতিক মিশনেও জমা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছিল।
তবে ওই ঘোষণাটি শিক্ষার্থী ও পরিবার পুনর্মিলন ভিসার ক্ষেত্রে ছিল। সেটিকে কর্মভিসার ক্ষেত্রেও স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য ধরে নেওয়া যাবে না।
রোমানিয়ার সরকারি eViza নির্দেশনা অনুযায়ী, আবেদনকারীর বসবাসের এলাকার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত দূতাবাস বা কনস্যুলার অফিসে আবেদন করতে হয়। অন্য দেশে আবেদন করতে হলে সেখানে আইনগতভাবে অবস্থানের শর্তও রয়েছে।
তাই বাংলাদেশ থেকে D/AM2 ভিসার আবেদনকারীকে নয়াদিল্লির দূতাবাসের কাছ থেকে কর্মভিসার আবেদন গ্রহণ, সাক্ষাৎকারের স্থান ও অ্যাপয়েন্টমেন্ট সম্পর্কে আগেই নিশ্চিত হতে হবে।
এ ছাড়া রোমানিয়ার eViza পোর্টালে অনলাইনে আবেদন পূরণ ও যাচাইয়ের পর দূতাবাসে সাক্ষাৎকারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট দেওয়া হয়। মূল কাগজপত্র ও প্রয়োজনীয় অনুলিপি নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত হতে হয়।
রোমানিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরামর্শ হলো, দীর্ঘমেয়াদি ভিসার জন্য সম্ভাব্য যাত্রার অন্তত ৪৫ দিন আগে আবেদন করা ভালো। তবে ৯০ দিনের বেশি আগে আবেদন করা যাবে না। আবেদন নিষ্পত্তির সময় দূতাবাসের কাজের চাপ ও কাগজপত্রের পূর্ণতার ওপর নির্ভর করে।
রেসিডেন্স পারমিটের খরচ কত?
রোমানিয়ায় কাজের ভিসা নিয়ে প্রবেশ করলেই দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়ে যায় না। দেশটিতে পৌঁছানোর পর কাজের উদ্দেশ্যে অস্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা সিঙ্গেল পারমিট নিতে হয়।
রোমানিয়ার WorkinRomania সরকারি সেবা পোর্টালে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অস্থায়ী বসবাসের অনুমতির ক্ষেত্রে:
রেসিডেন্স পারমিট কার্ডের ফি: ২৬৫ রোমানিয়ান লেই (RON)।
বসবাসের অধিকার বাড়ানোর ফি: ৬১১ রোমানিয়ান লেই।
৬১১ লেইয়ের অঙ্কটি প্রায় ১২০ ইউরোর সমতুল্য; বিনিময় হার অনুযায়ী প্রকৃত পরিশোধযোগ্য অঙ্ক পরিবর্তিত হতে পারে।
IGI-এর নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রথম সিঙ্গেল পারমিটের জন্য পাসপোর্ট, আবেদনপত্র, বৈধ আবাসনের প্রমাণ ও মেডিকেল সার্টিফিকেটসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হয়।
ভিসায় অনুমোদিত বসবাসের মেয়াদ শেষ হওয়ার অন্তত ৩০ দিন আগে রেসিডেন্স পারমিটের আবেদন করতে হবে। পরবর্তী নবায়নের ক্ষেত্রেও মেয়াদ শেষ হওয়ার অন্তত ৩০ দিন আগে আবেদন করা প্রয়োজন।
এখানে মনে রাখতে হবে, ৩০০ ইউরো ভিসা ফি এবং রোমানিয়ায় পৌঁছানোর পর রেসিডেন্স পারমিটের খরচ দুটি আলাদা বিষয়।
ঢাকা থেকে রোমানিয়া যেতে বিমানভাড়া কত?
ঢাকা থেকে রোমানিয়ার রাজধানী বুখারেস্টের হেনরি কোয়ান্ডা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (OTP) পর্যন্ত একমুখী বিমানভাড়া নির্দিষ্ট নয়। যাত্রার তারিখ, এয়ারলাইন, ট্রানজিট, আসনসংখ্যা এবং টিকিটের শ্রেণিভেদে দাম পরিবর্তিত হয়।
১ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে পাওয়া অনলাইন বুকিং তথ্য অনুযায়ী:
বুকিং সূত্র প্রকাশিত একমুখী ভাড়া
Trip.com-এ ১৮ নভেম্বরের একটি সংযোগ ফ্লাইট ৩৯৯ মার্কিন ডলার থেকে
flydubai-এর প্রকাশিত নভেম্বরের প্রারম্ভিক ভাড়া ৯৪৩ মার্কিন ডলার থেকে
Trip.com-এর তথ্যে ১৮ নভেম্বর ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি সংযোগ ফ্লাইটের যাত্রাসময় প্রায় ২২ ঘণ্টা ১০ মিনিট দেখানো হয়েছে। অন্যদিকে flydubai-এর ওয়েবসাইটে ঢাকা-বুখারেস্ট রুটে নভেম্বরের একমুখী ভাড়া ৯৪৩ ডলার থেকে দেখানো হয়েছে।
দুটি বুকিং সূত্রের ভাড়ার মধ্যে পার্থক্য থাকায় টিকিট কাটার আগে সরাসরি এয়ারলাইন ও বুকিং প্ল্যাটফর্মে একই তারিখের মূল্য যাচাই করা জরুরি।
বিমানভাড়া দেখার ওয়েবসাইট:
https://www.trip.com/flights/dhaka-to-bucharest/airfares-dac-buh/
https://www.flydubai.com/en-bd/cheap-flights/flights-from-dhaka-to-bucharest/
এগুলো ১ নভেম্বর পাওয়া প্রকাশিত মূল্য; টিকিট কেনার সময় একই দাম থাকবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।
সব মিলিয়ে যেতে কত টাকা প্রয়োজন?
এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, রোমানিয়ায় যাওয়ার জন্য সবার ক্ষেত্রে একই অঙ্কের খরচ হয় না। কারণ নিয়োগকর্তা, চাকরির ধরন, এজেন্সি, বিমানের টিকিট, আবাসন এবং অন্যান্য সুবিধার ওপর মোট ব্যয় নির্ভর করে।
যেসব খরচের নির্দিষ্ট সরকারি বা প্রকাশিত মূল্য পাওয়া গেছে, সেগুলো হলো:
খরচের খাত প্রকাশিত মূল্য
দীর্ঘমেয়াদি D ভিসা ৩০০ ইউরো
রেসিডেন্স পারমিট কার্ড ২৬৫ RON
বসবাসের অধিকার বাড়ানোর ফি ৬১১ RON
ঢাকা-বুখারেস্ট একমুখী বিমানভাড়া ৩৯৯–৯৪৩ মার্কিন ডলার (প্রকাশিত উদাহরণ)
চিকিৎসা বিমা নির্দিষ্ট প্রিমিয়াম নেই; ন্যূনতম কভারেজ ৩০ হাজার ইউরো
এর বাইরে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স, অনুবাদ ও বৈধায়ন, পাসপোর্ট, দূতাবাসে যাতায়াত, খাবার এবং প্রাথমিক আবাসনের খরচ থাকতে পারে। এসবের জন্য কোনো একক সরকারি মূল্য পাওয়া যায়নি।
বিশেষ করে বাংলাদেশ থেকে নয়াদিল্লিতে ভিসার সাক্ষাৎকার দিতে হলে যাতায়াত ও অন্যান্য খরচও হিসাব করতে হবে। কর্মভিসার জন্য অন্য কোনো দেশে আবেদন করার অনুমতি ও স্থান নিশ্চিত না করে সেই খরচের হিসাব করা ঠিক হবে না।
বিএওইএসএলের পুরোনো ২ লাখ ৩১ হাজার ২৪০ টাকার প্যাকেজটি একটি নির্দিষ্ট নিয়োগচুক্তির জন্য ছিল। বর্তমান ৩০০ ইউরো ভিসা ফি, নতুন নিয়োগবিধি এবং বিমানভাড়ার পরিবর্তনের কারণে সেটিকে ২০২৬ সালের সর্বজনীন খরচ বলা যাবে না।
রোমানিয়ায় ন্যূনতম বেতন কত?
রোমানিয়ায় চাকরি নিতে আগ্রহীদের সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত বেতনের প্রকৃত অঙ্কের ওপর। কারণ নিয়োগকর্তার দেওয়া বেতন গ্রস নাকি নেট, তা না বুঝে বিদেশযাত্রার সিদ্ধান্ত নিলে পরে আর্থিক সমস্যায় পড়তে পারেন।
EURES-এর ২০২৬ সালের ৩ জুলাই হালনাগাদ করা তথ্য অনুযায়ী, ১ জুলাই ২০২৬ থেকে রোমানিয়ায় পূর্ণকালীন সাধারণ চাকরির জাতীয় ন্যূনতম মাসিক গ্রস বেতন ৪ হাজার ৩২৫ RON। আনুমানিক নেট বেতন ২ হাজার ৬৯৯ RON।
নির্মাণ খাতে ন্যূনতম গ্রস বেতন ৪ হাজার ৫৮২ RON নির্ধারিত রয়েছে।
অন্যদিকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে দেশটির গড় গ্রস বেতন ছিল ৯ হাজার ২৭২ RON এবং গড় নেট বেতন ৫ হাজার ৫৫৭ RON।
এখানে ন্যূনতম ও গড় বেতনের পার্থক্য বোঝা জরুরি। একজন সাধারণ বিদেশি কর্মী গড় বেতন পাবেন—এমন নিশ্চয়তা নেই।
EURES-এর তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ পূর্ণকালীন কর্মঘণ্টা দৈনিক আট ঘণ্টা এবং সাপ্তাহিক ৪০ ঘণ্টা। ওভারটাইমসহ সাধারণভাবে সাপ্তাহিক কাজের সময় ৪৮ ঘণ্টার বেশি হওয়া উচিত নয়। অতিরিক্ত কাজের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বেতনসহ ছুটি অথবা অতিরিক্ত পারিশ্রমিক দিতে হয়। ছুটির মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ সম্ভব না হলে ওভারটাইমের পারিশ্রমিক মূল বেতনের অন্তত ৭৫ শতাংশ বেশি হতে হবে।
রাত ১০টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত কাজ রাতের কাজ হিসেবে গণ্য হয়। নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে এর জন্য অতিরিক্ত পারিশ্রমিকও প্রাপ্য।
চুক্তিতে কোন বিষয়গুলো অবশ্যই দেখতে হবে?
রোমানিয়ার eViza ওয়েবসাইটে প্রকাশিত চাকরির চুক্তি-সংক্রান্ত নির্দেশনায় নিয়োগের শর্তগুলো স্পষ্টভাবে উল্লেখ করার কথা বলা হয়েছে।
চুক্তিতে অন্তত নিচের বিষয়গুলো থাকা জরুরি:
কর্মীর পদ ও দায়িত্ব।
চাকরির মেয়াদ।
গ্রস ও নেট বেতনের পরিমাণ।
বেতন দেওয়ার তারিখ ও পদ্ধতি।
দৈনিক ও সাপ্তাহিক কর্মঘণ্টা।
সাপ্তাহিক বিশ্রাম ও ওভারটাইমের হিসাব।
বার্ষিক বেতনসহ ছুটির পরিমাণ।
আবাসনের ব্যবস্থা থাকলে তার বিবরণ।
স্বাস্থ্যবিমা ও সামাজিক নিরাপত্তা।
কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও দুর্ঘটনার ক্ষতিপূরণ।
চাকরি শেষ বা নবায়নের শর্ত।
বিশেষ করে নিয়োগকর্তা থাকা ও খাবারের খরচ বহন করবেন কি না, তা চুক্তিতে লিখিত থাকা উচিত। শুধু মৌখিক আশ্বাসের ওপর নির্ভর করে বিদেশযাত্রা ঝুঁকিপূর্ণ।
প্রতারণা এড়াতে কোন বিষয়গুলো যাচাই করবেন?
রোমানিয়ায় কর্মী পাঠানোর নামে বাংলাদেশে বিভিন্ন ধরনের মধ্যস্থতাকারী বা এজেন্সি কাজ করতে পারে। তাই কোনো প্রতিষ্ঠানকে টাকা দেওয়ার আগে তাদের বৈধতা যাচাই করা প্রয়োজন।
প্রথমত, রোমানিয়ার নিয়োগকর্তার নাম ও কোম্পানির নিবন্ধন নম্বর সংগ্রহ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, চাকরির অফার ও চুক্তির সত্যতা যাচাই করতে হবে। তৃতীয়ত, নিয়োগকারী এজেন্সি রোমানিয়ার সরকারি ব্যবস্থায় অনুমোদিত কি না, সেটি দেখতে হবে।
WorkinRomania প্ল্যাটফর্মে অনুমোদিত নিয়োগকর্তা ও প্লেসমেন্ট এজেন্সি যাচাইয়ের ব্যবস্থা রয়েছে।
কোনো এজেন্সি যদি বলে, টাকা দিলেই ওয়ার্ক পারমিট নিশ্চিত, তাহলে সতর্ক হতে হবে। কারণ নিয়োগকর্তার বৈধ আবেদন, সরকারি যাচাই এবং ভিসা অনুমোদন ছাড়া শুধু টাকা দিয়ে বৈধ কর্মভিসা পাওয়া যায় না।
এ ছাড়া টুরিস্ট ভিসায় গিয়ে কাজ করার প্রস্তাব গ্রহণ করা উচিত নয়। কাজের জন্য উপযুক্ত দীর্ঘমেয়াদি ভিসা ও নিয়োগসংক্রান্ত অনুমোদন প্রয়োজন।
প্রবাসীদের সহায়তায় রোমানিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস
রোমানিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য বুখারেস্টে বাংলাদেশের দূতাবাস রয়েছে। পাসপোর্ট, কনস্যুলার সেবা, প্রবাসী কল্যাণ এবং জরুরি প্রয়োজনে দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়।
দূতাবাসের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত যোগাযোগের তথ্য:
ঠিকানা: Strada Dr. Burgehlea nr. 5, Sector-2, Bucharest 030167, Romania।
অফিস: +40 374 469 050
কনস্যুলার সেবা: +40 753 385 877
ই-মেইল: mission.bucharest@mofa.gov.bd
ওয়েবসাইট: https://bucharest.mofa.gov.bd/
শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের কর্মীদের সুযোগ কতটা?
রোমানিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশের জন্য সুযোগ রয়েছে, তবে সেই সুযোগকে নিশ্চিত কর্মসংস্থান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। দেশটির ৯০ হাজার কর্মী নেওয়ার কোটা, নির্মাণ ও কারিগরি খাতে কর্মীর ঘাটতি এবং বিএওইএসএলের মাধ্যমে ইতিমধ্যে কর্মী পাঠানোর অভিজ্ঞতা সম্ভাবনার বিষয়টি সামনে আনে।
অন্যদিকে নতুন নিয়োগবিধি, D/AM2 আবেদনপ্রক্রিয়ার সাময়িক অচলাবস্থা, ভিসা ফি বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশ থেকে কনস্যুলার সেবা গ্রহণের জটিলতা বড় প্রতিবন্ধকতা।
বিশেষ করে ২০২৬ সালের ১৫ নভেম্বরের মধ্যে WorkinRomania প্ল্যাটফর্ম পুনরায় চালুর যে সম্ভাবনার কথা PIFM জানিয়েছে, সেটি বাস্তবায়িত হলে নতুন নিয়োগপ্রক্রিয়া আবার গতি পেতে পারে। তবে এ বিষয়ে রোমানিয়া সরকারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ও প্ল্যাটফর্মের কার্যকারিতা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
বাংলাদেশের জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো দক্ষ কর্মী তৈরি, বিএওইএসএলের মাধ্যমে স্বচ্ছ নিয়োগ বাড়ানো, রোমানিয়ার নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি চুক্তি করা এবং ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করতে কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া।
কারণ শুধু শ্রমিকের চাহিদা থাকলেই শ্রমবাজার তৈরি হয় না; সেই চাহিদার বিপরীতে বৈধ নিয়োগ, অনুমোদিত ভিসা, ন্যায্য বেতন এবং নিরাপদ অভিবাসনের নিশ্চয়তা থাকতে হয়।








