মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

সবশেষ

স্বামীকে দুবাই পাঠাতে বিমানবন্দরের পথে, খালে পড়ল মাইক্রোবাস; প্রাণ হারালেন স্ত্রী

স্বামীকে বিদেশে কর্মস্থলে ফিরিয়ে দিতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন মমতাজ বেগম। কিন্তু বিদায়ের সেই যাত্রাই হয়ে উঠল জীবনের শেষ সফর। মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি মাইক্রোবাস খালে পড়ে গেলে প্রাণ হারান তিনি। আহত হন একই পরিবারের আরও ১০ সদস্য।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে সিরাজদিখান উপজেলার ইছাপুরা ইউনিয়নের কুসুমপুর বউবাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মমতাজ বেগম (৩৫) টঙ্গীবাড়ি উপজেলার বজ্রযোগিনী এলাকার বাসিন্দা এবং দুবাইপ্রবাসী মো. লিটন সরকারের স্ত্রী।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত ৮টার ফ্লাইটে দুবাই যাওয়ার কথা ছিল লিটন সরকারের। তাকে বিদায় জানাতে স্ত্রী, সন্তান এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়ে একটি সাদা রঙের মাইক্রোবাসে করে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা দেন তিনি।

পথিমধ্যে কুসুমপুর বউবাজার এলাকায় পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। একপর্যায়ে মাইক্রোবাসটি সড়কের পাশের খালে পড়ে যায়। দুর্ঘটনায় মমতাজ বেগম গুরুতর আহত হন।

স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধারকাজে এগিয়ে এসে আহতদের বের করে আনেন। পরে মমতাজকে ইছাপুরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। দুর্ঘটনায় আহত হন মাইক্রোবাসে থাকা আরও ১০ জন।

নিহতের ভাই মো. ফিরুজ জানান, লিটন সরকার স্ত্রী মমতাজ, সন্তান তোহাদ ও ফাতেমাসহ পরিবারের মোট ১১ সদস্যকে নিয়ে বিমানবন্দরে যাচ্ছিলেন। পথেই ঘটে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।

ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, খবর পেয়ে সিরাজদিখান ফায়ার স্টেশনের একটি উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালায়। আহতদের প্রথমে সিরাজদিখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে তাদের মধ্যে ছয়জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় এবং দুজনকে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনায় মমতাজ বেগম ঘটনাস্থলেই নিহত হন। বাকি আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

সিরাজদিখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলাউদ্দিন জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। বর্তমানে ওই সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। মরদেহ সিরাজদিখান স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে।

স্বামীকে কর্মস্থলে বিদায় জানাতে বের হওয়া একটি পরিবারের জন্য দিনের শুরুটা ছিল স্বাভাবিক। কিন্তু বিমানবন্দরে পৌঁছানোর আগেই সেই যাত্রা পরিণত হয় শোকের ঘটনায়। এক মুহূর্তের দুর্ঘটনায় পরিবার হারায় তাদের প্রিয়জনকে, আর বিদেশযাত্রার প্রস্তুতি বদলে যায় শোকের মাতমে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *