নিখোঁজের ২৭ বছর পর পরিবারের কাছে ফিরলেন শরিয়তপুরের নড়িয়া প্রবাসী আমির হোসেন তালুকদার। বুধবার ২২ এপ্রিল রাত ১২টা ২০ মিনিটে মালয়েশিয়া থেকে ঢাকায় পৌঁছান তিনি।
৩০ বছর পর বাবাকে পেয়ে ছেলে বাবু তালুকদারসহ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। তালুকদারের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা বিবেচনা করে তাঁর চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে ব্র্যাক।
পরিবারের সদস্যদের বরাতে ব্র্যাক জানিয়েছে ১৯৯৬ সালে জীবিকার সন্ধানে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান আমির হোসেন (৬২)। প্রবাস জীবনের শুরুতে প্রথম তিন বছর পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ থাকলেও পরবর্তী ২৭ বছর তার কোনো খোঁজ পায়নি পরিবার। সময়ের সাথে সাথে স্বজনরা ধরে নিয়েছিলেন, হয়তো তিনি আর বেঁচে নেই।
ছেলে জানান, বাবা মালয়েশিয়ায় রংয়ের কাজ করতেন। প্রথম দিকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন, কিছু অর্থও পাঠিয়েছিলেন। তবে হঠাৎ করেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় কোনো খোঁজ না পেয়ে পরিবার তার মৃত্যুর আশঙ্কা করেছিল।
ছেলে বলেন, সম্প্রতি মালয়েশিয়া প্রবাসী কয়েকজন বাংলাদেশি পেনাংয়ের একটি জঙ্গলে গিয়ে একটা ছোট্ট টিনের ঘরে মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় তাকে দেখতে পান। সেখান থেকে তারা তাকে উদ্ধার করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করেন। বিশেষ করে প্রবাসী সাংবাদিক বাপ্পি কুমার দাস এবং পেনাং প্রবাসী দিপুর প্রচেষ্টায় বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তারা ব্র্যাকের কাছেও বিষয়টি জানায়। দেশে থাকা আমিরের পরিবার তখন তাকে শনাক্ত করে। এরপর প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস তাকে ট্রাভেল পাস প্রদান করে দেশে ফেরার ব্যবস্থা করে।
একবার ভাবুন, ৩০ বছর ধরে একজন প্রবাসে, পরিবারের সদস্যদের সাথে ২৭ বছর ধরে যোগাযোগ না থাকার ঘটনা ভীষণ বেদনাদায়ক। এই ঘটনা প্রবাসে অনিশ্চয়তার এক জ্বলন্ত উদাহরণ, অতীতেও এমন ঘটনা দেখা গিয়েছে । প্রত্যেক প্রবাসীর খোঁজ রাখা জরুরী যাতে এমন ঘটনা আর দেখতে না হয়।








