রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

সবশেষ

দুই সপ্তাহের আন্দোলনেও মেলেনি সমাধান, গাজীপুরে ফের অচল মহাসড়ক

গাজীপুরের পোশাকশিল্পাঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষ ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে। ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে টানা প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলা আন্দোলন থামার কোনো লক্ষণ নেই। বরং একের পর এক শিল্প এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে বিক্ষোভ।

শনিবার পুলিশের সঙ্গে উত্তেজনা ও সড়ক অবরোধের ঘটনার পর রোববার সকালেও নতুন করে রাজপথে নামেন শ্রমিকেরা। তাদের আন্দোলনে অচল হয়ে পড়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক। কোনাবাড়ীতে একটি পুলিশ বক্সে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পাঁচ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করেছে প্রশাসন।

এক এলাকা থেকে আরেক এলাকায় ছড়াচ্ছে আন্দোলন
রোববার সকালে কালিয়াকৈরের সফিপুর বাজার, চন্দ্রা পল্লীবিদ্যুৎ, মৌচাক ও তেলিচালা এলাকায় শ্রমিকদের বিক্ষোভ শুরু হয়। রতনপুর এলাকার করনী নিট কম্পোজিট ও নিট এশিয়াসহ আশপাশের কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা কাজে যোগ না দিয়ে আন্দোলনে অংশ নেন।

লক্ষণীয় বিষয় হলো, শ্রমিকেরা প্রথমে কারখানায় হাজিরা দিলেও পরে সড়কে নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে বিভিন্ন কারখানার শ্রমিক একত্র হয়ে মহাসড়কের একাধিক স্থানে অবস্থান নেন। তাদের আন্দোলনের প্রভাবে আশপাশের কয়েকটি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়।

শ্রমিকেরা বেতন বৃদ্ধির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। পরে শত শত শ্রমিক লাঠিসোঁটা হাতে সড়কে অবস্থান নিলে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

আগের দিনের অবরোধের রেশ কাটেনি
রোববারের বিক্ষোভের আগে শনিবারও একই মহাসড়কে শ্রমিকদের অবরোধের ঘটনা ঘটে। কালিয়াকৈরের চন্দ্রা পল্লীবিদ্যুৎ ও আনসার একাডেমির ৩ নম্বর ফটক এলাকায় রাত সাড়ে আটটা পর্যন্ত সড়ক আটকে রাখেন আন্দোলনকারীরা।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ ও লাঠিপেটা করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে। এতে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

তবে এক দিনের ব্যবধানে আবারও একই এলাকায় শ্রমিকদের সড়কে নামা এবং অবরোধের ঘটনা আন্দোলনের ধারাবাহিকতা স্পষ্ট করেছে।

পুলিশ বক্সে আগুন, বাড়তি নিরাপত্তায় বিজিবি
শ্রমিক বিক্ষোভের মধ্যে গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ী এলাকায় মহাসড়কের মাঝখানে থাকা একটি পুলিশ বক্সে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা পুলিশ বক্সের ভেতরের মালামাল বাইরে বের করে সেগুলোতেও আগুন ধরিয়ে দেন।

কোনাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইফতেখার হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতে গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় পাঁচ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূইয়া জানান, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় বিজিবি মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন হলে সদস্যসংখ্যা আরও বাড়ানো হবে।

কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম জানান, সকাল থেকেই শ্রমিকেরা মহাসড়কে অবস্থান নেওয়ায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ, থমকে পরিবহন চলাচল
শ্রমিকদের অবরোধে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রী ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভোগান্তি বেড়েছে।

মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন এখন গাজীপুরের একাধিক শিল্প এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। শনিবারের অবরোধ ও পুলিশের সঙ্গে উত্তেজনার পর রোববারও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। বরং নতুন করে সড়ক অবরোধ, অগ্নিসংযোগ এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের মধ্য দিয়ে শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক অসন্তোষ আরও দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *